অটোপাসের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। এ সময় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহর গাড়ি ঘেরাও ও হামলার অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে গাজীপুর ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, অটোপাসের দাবিতে আন্দোলনরত ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা ভিসির গাড়ি আটকে দেয় এবং হামলার ঘটনা ঘটায়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সরাতে গেলে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। এতে অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

আহতদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর রেজাউর রহমান মিয়া, নিরাপত্তা দপ্তরের পরিচালক মো. কামাল হাসানসহ কয়েকজন রয়েছেন।

অন্যদিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নিরাপত্তাকর্মীদের হামলায় অন্তত ২৫ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তারা দাবি করেন, আলোচনার চেষ্টা করা হলে তাদের ওপর মারধর করা হয় এবং নারী শিক্ষার্থীদের লাঞ্ছিত করা হয়।

জানা গেছে, ২০২৩ সালের ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে অটোপাসের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ১০ শতাংশ গ্রেস মার্ক দিয়ে ফল প্রকাশ করলেও অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা অটোপাসের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

ঘটনার পর উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, “অন্যায্য দাবি মেনে নেওয়ার সুযোগ নেই। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কোনো অটোপাসকে সমর্থন করে না।” তিনি আরও জানান, শিক্ষার মান বজায় রাখতে ভবিষ্যতে অটোপাস ও গ্রেস নম্বর নিরুৎসাহিত করা হবে।

এদিকে বাংলাদেশ পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ভিসিসহ সংশ্লিষ্টদের নিরাপদে সরিয়ে দেয়।