অস্ট্রেলিয়ার সামরিক বাহিনীর ১২৫ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন নারী সেনাপ্রধান হতে যাচ্ছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুসান কয়েল। সোমবার (১৩ এপ্রিল) দেশটির সরকার এক ঘোষণায় তাকে পরবর্তী সেনাপ্রধান হিসেবে মনোনীত করে।
বর্তমান সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাইমন স্টুয়ার্টের স্থলাভিষিক্ত হয়ে আগামী জুলাই মাসে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর চিফ অব জয়েন্ট ক্যাপাবিলিটিজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ এক বিবৃতিতে বলেন, “জুলাই থেকে আমরা প্রথম নারী সেনাপ্রধান পাচ্ছি, যা আমাদের প্রতিরক্ষা বাহিনীর জন্য গর্বের মুহূর্ত।”
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস এই নিয়োগকে ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করেন। তিনি সুসান কয়েলের একটি বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, “যা দেখা যায় না, তা হওয়া যায় না”—এই অর্জন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নারী কর্মকর্তাদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
৫৫ বছর বয়সী সুসান কয়েল প্রায় চার দশকের সামরিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্মকর্তা। তিনি আফগানিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মিশনে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং সাইবার যুদ্ধক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
নিজের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তাকে এই দায়িত্ব পালনে সহায়তা করবে এবং তার ওপর রাখা আস্থার প্রতিদান দিতে তিনি প্রস্তুত।
বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীতে নারীর অংশগ্রহণ প্রায় ২১ শতাংশ, আর শীর্ষ নেতৃত্বে এই হার ১৮.৫ শতাংশ। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে এটি ২৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে।
তবে এই নিয়োগ এমন সময়ে এলো যখন সেনাবাহিনীতে যৌন হয়রানি ও বৈষম্য নিয়ে বিতর্ক চলছে। গত বছর কয়েক হাজার নারী কর্মকর্তা নিরাপত্তা ব্যর্থতার অভিযোগে একটি যৌথ মামলা দায়ের করেন।
এদিকে সামগ্রিক প্রতিরক্ষা কাঠামোতেও বড় রদবদল আনা হয়েছে। ভাইস অ্যাডমিরাল মার্ক হ্যামন্ডকে প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। রিয়ার অ্যাডমিরাল ম্যাথিউ বাকলি নৌবাহিনীর নতুন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেবেন।
অস্ট্রেলিয়ার সেনাবাহিনী বর্তমানে আধুনিকায়নের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে ড্রোন প্রযুক্তি ও দূরপাল্লার অস্ত্র ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব বাড়ছে। এই পরিবর্তনের সময়ে সুসান কয়েলের নেতৃত্বকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা





