আগামীর বাংলাদেশ হবে কালেমাভিত্তিক, ইসলামী মূল্যবোধসম্পন্ন বাংলাদেশ—এমন মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বক্তা ড. ফয়জুল হক। শনিবার (১৯ জুলাই) ঢাকার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় সমাবেশে প্রধান মঞ্চে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
ড. ফয়জুল হক বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস এবং পাথর ছুড়ে মানুষ হত্যার মতো বর্বরতা থাকবে না। আমাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ হবে ন্যায়, ইনসাফ ও ইসলামী মূল্যবোধে সমৃদ্ধ।”
তিনি বলেন, “২০১৩ সালে আলেম সমাজের অনেক শীর্ষস্থানীয় নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। নিজামী, সাঈদী, মুজাহিদ, কাদের মোল্লা—তাদের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। সেই রক্তের জবাব ইতিহাসের পাতােই লেখা থাকবে।”
আলেম-ওলামাদের প্রতি বৈষম্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা আলেমদের মাঝে বিভক্তি দেখতে চাই না। ইসলামী শক্তির ঐক্য এখন সময়ের দাবি। বাংলাদেশজুড়ে ইসলামী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।”
'রাজাকার' শব্দ ব্যবহারের প্রসঙ্গে ড. ফয়জুল হক বলেন, “স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর কেউ যদি এখনও ‘রাজাকার’ শব্দটি ব্যবহার করে ইসলামের বিরুদ্ধে ঘৃণা উসকে দিতে চায়, তবে তাদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। এ দেশের মানুষ সে জবাব দিতে প্রস্তুত।”
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর এই প্রথমবারের মতো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এককভাবে জাতীয় সমাবেশ আয়োজন করেছে জামায়াতে ইসলামী।
সমাবেশে জামায়াত সাত দফা দাবি তুলে ধরেছে, যার মধ্যে রয়েছে—অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিতে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিতকরণ
,জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের পুনর্বাসন, সব গণহত্যার বিচার, সংবিধান ও প্রশাসনে মৌলিক সংস্কার, জুলাই সনদ’ ও ঘোষণাপত্র বাস্তবায়ন, প্রবাসী ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণ, এবং সংখ্যানুপাতিক (PR) পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন।
সারাদেশ থেকে নেতাকর্মীদের ঢল নামে ঐতিহাসিক এই সমাবেশে, যা রাজধানীজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।





