ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি আগামী সপ্তাহে কার্যকর হতে পারে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (১ জুলাই) ফ্লোরিডায় একটি অস্থায়ী অভিবাসী আটক কেন্দ্রের উদ্বোধনের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
ট্রাম্প বলেন, “আমরা আশা করছি এটি (যুদ্ধবিরতি) খুব শিগগিরই বাস্তবায়ন হবে। এটি আগামী সপ্তাহের যেকোনো সময় ঘটতে পারে।”
তিনি আরও জানান, আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে গাজা পরিস্থিতি ও ইরান ইস্যুতে আলোচনা হবে। ট্রাম্প বলেন, “তিনি এখানে আসছেন। আমরা ইরানে আমাদের সাফল্য ও গাজার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলব।”
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু একই দিন মন্ত্রিসভার বৈঠকে জানান, তিনি যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পসহ মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এর কয়েক ঘণ্টা পর হোয়াইট হাউস থেকেও বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
নেতানিয়াহুর সফরসূচি অনুযায়ী, তিনি শনিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হবেন এবং সোমবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সফরকালে তিনি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ এবং বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকসহ শীর্ষ মার্কিন আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
এর আগে ২৫ জুন নেদারল্যান্ডের হেগে ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠক শেষে ট্রাম্প বলেন, “আমি মনে করি গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির বিষয়ে দারুণ অগ্রগতি হয়েছে। ইরানে সাম্প্রতিক হামলাও এই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করেছে।”
গাজায় ইসরায়েলি বন্দীদের মুক্তি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “আমি বিশ্বাস করি ইরানের ওপর হামলা কিছুটা সহায়ক হয়েছে। যদিও গাজা নিয়ে চুক্তি হওয়ার পথে আমরা আগেই অনেক দূর এগিয়েছিলাম।”
গাজায় চলমান মানবিক সংকট নিরসন ও দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাতের অবসানের লক্ষ্যে এই যুদ্ধবিরতি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সূত্র: আনাদোলু





