চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচন ঘিরে আচরণবিধি লঙ্ঘনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির। বুধবার, ৮ অক্টোবর উভয় সংগঠনই প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মনির উদ্দিনের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেয়।
ছাত্রদলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, চাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবির মনোনীত প্যানেলের ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) পদপ্রার্থী ইব্রাহীম রনি নির্বাচনী আচরণবিধি ভেঙেছেন। অভিযোগে বলা হয়, বুধবার দুপুর ১২টা ১৮ মিনিটে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ হৃদয় তড়ুয়া ভবনের তৃতীয় তলায় ইতিহাস বিভাগের ৩২৩ নম্বর ক্লাসরুমে প্রবেশ করে ক্লাসের মাইক তথা সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করেন। ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর করেন ছাত্রদলের প্যানেলের ভিপি প্রার্থী সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় এবং জিএস প্রার্থী মো. শাফায়াত হোসেন।
এ বিষয়ে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, ইব্রাহীম রনি নির্বাচনী আচরণবিধি স্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করেছেন, যার প্রমাণ আমাদের কাছে রয়েছে। আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ দিয়েছি। যদি কমিশন যথাযথ ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে আমরা ধরে নেব কমিশন ব্যর্থ হয়েছে।
অন্যদিকে, ছাত্রশিবিরও ছাত্রদলের বিরুদ্ধে আচরণবিধি ভাঙার অভিযোগ করেছে। তাদের অভিযোগে বলা হয়, একই দিন দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট থেকে ১টার মধ্যে আইন অনুষদের এলএলএম ক্লাসরুমে অনুষ্ঠিত ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের ক্লাস চলাকালীন ছাত্রদলের কর্মী এবং আইন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাঈম উদ্দিন ক্লাসে ঢুকে নির্বাচনী প্রচারণা চালান। তিনি ছাত্র সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের পক্ষে বক্তব্য দেন, লিফলেট বিতরণ করেন এবং অন্য প্যানেলের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে উত্তেজনাকর মন্তব্য করেন, যা ক্লাসের পরিবেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে অস্বস্তি ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগে আরও বলা হয়, ক্লাসরুমে স্থাপিত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করলেই ঘটনার সত্যতা পাওয়া যাবে।
ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে অভিযোগ প্রসঙ্গে শাখা সেক্রেটারি মোহাম্মদ পারভেজ বলেন, আমরা ভিডিওসহ প্রমাণ নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়েছি। আশা করি, কমিশন নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চাকসু নির্বাচন কমিশনের প্রধান অধ্যাপক ড. মনির উদ্দিন বলেন, উভয় সংগঠনের দেওয়া অভিযোগপত্র আচরণবিধি কমিটির কাছে পাঠানো হবে। সেখান থেকে তদন্ত শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।





