ইসরায়েলের জ্বালানি তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটানোর হুমকি দিয়েছে ইরান। প্রতিবেশী আজারবাইজান থেকে ইসরায়েলে আসা জ্বালানি তেলের একটি বড় অংশ এই সরবরাহ ব্যবস্থার মাধ্যমে পৌঁছায় বলে জানা গেছে।

ইসরায়েলের জ্বালানি তেলের চাহিদার প্রায় ৩০ শতাংশ আসে আজারবাইজান থেকে। ওই তেল বাকু থেকে জর্জিয়ার তিবিলিসি হয়ে তুরস্কের ভূ-মধ্যসাগরীয় শহর জায়হানে পাইপলাইনের মাধ্যমে পরিবহন করা হয় এবং সেখান থেকে ইসরায়েলে রপ্তানি করা হয়।

সম্প্রতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি আলোচনা চলমান থাকার মধ্যেই ইসরায়েল তেহরানে হামলা চালায়। পরে সেই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রও যোগ দেয় বলে অভিযোগ ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইরান ৩ মার্চ বিশ্ববাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেয়।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউরোপের জেট ফুয়েল সরবরাহের প্রায় ৩০ শতাংশ এবং বিশ্বের তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। একই সঙ্গে বিশ্বে নৌপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৩১ শতাংশও এই প্রণালি দিয়ে যায়।

ইরানের বিপ্লবী গার্ডের এক উপদেষ্টার বরাতে জানানো হয়, শত্রুপক্ষের পাইপলাইন লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে এবং ওই অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, মূলত বাকু-তিবিলিসি-জায়হান পাইপলাইনকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে, যা ইসরায়েলের জ্বালানি তেলের একটি প্রধান সরবরাহ পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

এদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে এমন সময়ে এই হুমকি দেওয়া হলো, যখন দেশটি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার মুখোমুখি হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আজারবাইজানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইসরায়েল ইরান ও তেহরানপন্থি গোষ্ঠীগুলোর ওপর হামলা চালাচ্ছে। এ কারণে ইসরায়েলের তেল সরবরাহে চাপ সৃষ্টির কৌশল নিতে পারে ইরান।