প্রথমবারের মতো আজ বুধবার বরিশালে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দুপুরে নগরের বেলস পার্ক মাঠে অনুষ্ঠিতব্য এই জনসভাকে ঘিরে সকাল থেকেই নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। ইতোমধ্যে জনসভার মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে। ভোর থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে জড়ো হতে শুরু করেন।
বুধবার সকাল ৯টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, নারী ও পুরুষ নেতাকর্মীরা আলাদা আলাদা মিছিল নিয়ে জনসভাস্থলে আসছেন। কারও হাতে জাতীয় পতাকা, কারও হাতে দলীয় পতাকা। অনেককে বিভিন্ন রঙের ক্যাপ পরতেও দেখা যায়। মঞ্চের সামনের স্থান দখল করতে সকাল থেকেই নেতাকর্মীরা অবস্থান নিতে শুরু করেন।
বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠি ইউনিয়ন যুবদলের নেতা মিজানুর রহমান জানান, এর আগেও ঢাকায় তারেক রহমানের কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন তারা। এবার বরিশালের জনসভায় ৪০ জন নেতাকর্মী নিয়ে এসেছেন। তিনি আরও জানান, তাদের সংসদ সদস্য প্রার্থী একাধিক গাড়িবহর নিয়ে জনসভায় যোগ দেবেন।
বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার বিএনপি প্রার্থীরা এই জনসভায় অংশ নেবেন। বিভাগের ২১টি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। পাশাপাশি বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নূরুল ইসলাম নূরও জনসভায় থাকবেন। ভোলা-১ আসন থেকে পার্থ এবং পটুয়াখালী-৩ আসন থেকে নূর জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। জনসভায় প্রধান অতিথি তারেক রহমান মঞ্চ থেকে প্রার্থীদের জনগণের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবেন।
বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন বলেন, তারেক রহমানের বরিশালে আগমন উপলক্ষে নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এই জনসভায় ছয় জেলার হাজার হাজার মানুষের অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করা হচ্ছে। জনদুর্ভোগ কমাতে শহরের এক প্রান্তে জনসভার আয়োজন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, দুপুর ১২টার দিকে তারেক রহমান জনসভায় যোগ দেবেন। জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহতদের বসার জন্য মঞ্চের পাশে আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি মঞ্চে উঠবেন।
জনসভাস্থল পরিদর্শনের সময় বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন এবং জবাবদিহিমূলক সংসদ ও নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে। তিনি বলেন, এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে তারেক রহমানকে ঘিরে আবেগ ও ভালোবাসা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জনসভায় মানুষের উপস্থিতি বাড়ানোর জন্য কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়নি। যারা আসছেন, তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবেই আসছেন। বরিশালবাসীর বিভিন্ন দাবি লিখিত আকারে তারেক রহমানের কাছে তুলে ধরা হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিন ধরে বিএনপির দলীয় প্রার্থীসহ যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আনন্দমিছিল ও প্রচারণা চালিয়েছেন।
অন্যদিকে জনসভাকে ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে স্থানীয় প্রশাসন। জনসভাস্থলে পুলিশের পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, জনসমাবেশকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সমাবেশে আসা-যাওয়ার সব পথ পুলিশের নজরদারিতে থাকবে। পাশাপাশি আলাদা করে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশালের জনসভা শেষে হেলিকপ্টারে করে ফরিদপুর যাওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। সেখানে দুপুরের পর আরেকটি জনসভায় তিনি বক্তব্য দেবেন এবং প্রার্থীদের জনগণের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবেন। একই সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের হাতে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দেবেন।





