দীর্ঘ দমন-পীড়নের পর জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পতনের পর পুনর্জাগরণ ঘটেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে। দলটি এখন জাতীয় রাজনীতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। আগামী জাতীয় নির্বাচনে জনরায় পেলে সরকার গঠনের প্রস্তুতিও নিচ্ছে দলটি।
জামায়াতের শীর্ষ নেতারা ঢাকায় নিযুক্ত কূটনীতিকদের সঙ্গে একের পর এক বৈঠক করছেন। বিদেশি দূতাবাসের আয়োজনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে সফর করে তারা রাজনৈতিক অবস্থান, নীতি ও আওয়ামী আমলে দমন-নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরছেন।
সম্প্রতি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের। দলীয় সূত্রে জানা যায়, এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, পাকিস্তান, রাশিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা, ফ্রান্স, তুরস্ক, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, সুইজারল্যান্ড, ব্রাজিলসহ ৪০টির বেশি দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে জামায়াতের। তবে ভারতের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কোনো বৈঠক হয়নি।
গত সপ্তাহে আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ব্রাজিল ও সুইডেনের রাষ্ট্রদূত। সেপ্টেম্বর মাসেই প্রায় ১৪ দেশের কূটনীতিক বা প্রতিনিধিদলের সঙ্গে জামায়াত নেতাদের বৈঠক হয়। চলতি মাসের ১৬ অক্টোবর পর্যন্তও বেশ কিছু বৈঠকের শিডিউল রয়েছে। এ ছাড়া মাসের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও কয়েকটি ইউরোপীয় দেশে সফরের পরিকল্পনা করছে দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব।
কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আসন্ন নির্বাচন, সংস্কার কার্যক্রম, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্ভাবনা এবং নারী ও সংখ্যালঘু ইস্যু নিয়ে আলোচনা হচ্ছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। বৈঠকগুলোতে নারী নেতাদের অংশগ্রহণ রাখছে জামায়াত।
জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে চাই। সম্মান ও সমতার ভিত্তিতেই এগোতে চাই।” দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, “আওয়ামী আমলে ১৪ বছর অফিস বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে পারিনি। এখন আমরা নতুনভাবে কূটনীতিকদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছি।”
সূত্র জানায়, এর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আমন্ত্রণে জামায়াতের একটি প্রতিনিধিদল ব্রাসেলস সফর করে। চীন সরকারের আমন্ত্রণে দেশটি সফরও করেছে তারা। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কমিশন ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গেও দলের নেতারা মতবিনিময় করেছেন।
দলটির আন্তর্জাতিক যোগাযোগ রক্ষায় একটি কমিটি কাজ করছে, যার নেতৃত্বে আছেন আমির ডা. শফিকুর রহমান। নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের কমিটির সেক্রেটারি এবং অন্যান্য শীর্ষ নেতা এতে যুক্ত আছেন।
আগামী নির্বাচনে জামায়াতের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, “জুলাই বিপ্লব আমাদের সামনে বিরাট সুযোগ এনে দিয়েছে। মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও ইতিবাচক রাজনীতি চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। এর প্রতিফলন নির্বাচনে আসবে বলে আমরা আশাবাদী।”





