ব্যাট হাতে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬০ রান, এরপর বল হাতে ১০ ওভারে ১টি মেইডেনসহ মাত্র ৩২ রানে ১ উইকেট—সব মিলিয়ে দুর্দান্ত অলরাউন্ড পারফরম্যান্স দেখালেন মেহেদি হাসান মিরাজ। তবে তার এই প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত দলকে জয় এনে দিতে পারেনি। বাজে ব্যাটিংয়ের পর নীরস বোলিং—দুইয়ের সম্মিলনে আফগানিস্তানের বিপক্ষে হারের মাধ্যমে ওয়ানডে সিরিজ শুরু করলো বাংলাদেশ।
বুধবার, ৮ অক্টোবর আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে ৫ উইকেটে হারিয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় হাশমতউল্লাহ শহীদির নেতৃত্বাধীন আফগানিস্তান। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ গুটিয়ে যায় মাত্র ৪৮.৫ ওভারে ২২১ রানে। জবাবে ১৭ বল হাতে রেখেই লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে আফগানরা।
এক সময় ওয়ানডে ফরম্যাটে দারুণ ধারাবাহিক ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়টা বলছে ভিন্ন কথা—শেষ আট ওয়ানডেতে টাইগারদের জয় মাত্র একটিতে। এই সিরিজ দিয়ে সেই ছন্দে ফেরার আশা ছিল, তবে শুরুটা হলো হতাশাজনক। পুরনো ব্যাটিং ব্যর্থতায় আরও একটি হার সঙ্গী করেই মাঠ ছাড়তে হলো মিরাজদের।
ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের অধিনায়ক স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ব্যর্থতার মূল কারণ ছিল বড় জুটি গড়তে না পারা। তিনি বলেন, ‘প্রথম ১৫ ওভারে আমরা অনেক উইকেট হারিয়ে ফেলি। উইকেটটা সহজ ছিল না, একটু টার্ন করছিল। সেই সময় হৃদয় ভালো খেলেছে, ইতিবাচক মানসিকতায় ছিল। কিন্তু আমরা শেষ পর্যন্ত বড় কোনো জুটি গড়তে পারিনি, এখানেই আমাদের ব্যর্থতা।’
আসলে ম্যাচের শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ১২ ওভারের মধ্যেই ৩ উইকেট হারিয়ে বসে দল। সেখান থেকে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ান মিরাজ ও তাওহিদ হৃদয়। দুজন মিলে গড়েন ১০১ রানের জুটি। মনে হয়েছিল লড়াই জমে উঠবে, কিন্তু সেই আশায় পানি ঢেলে দেন পরবর্তী ব্যাটাররা। কেউই দাঁড়াতে পারেননি, ফলস্বরূপ ২২১ রানের বেশি যেতে পারেনি ইনিংস।
মিরাজ নিজেও স্বীকার করেছেন, এই উইকেটে তাদের লক্ষ্য ছিল অন্তত ২৮০ রান, কিন্তু সেটার ধারেকাছেও যেতে পারেনি দল। তার ভাষায়, ‘আমরা অন্তত ৪০ রান কম করেছি। যদি ২৬০-২৬৫ রানে পৌঁছাতে পারতাম, তাহলে ম্যাচটা আমাদের দিকে আসতে পারত। কারণ বোলিং ভালো ছিল আমাদের।’
তবে হারের পরও অধিনায়ক হতাশ নন। সিরিজে এখনও দুইটি ম্যাচ বাকি, এবং সেখানেই ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দেখছেন মিরাজ। তিনি বলেন, ‘সিরিজের একটা ম্যাচ শেষ হয়েছে, বাকি আছে দুইটা। আমরা কিছু ভুল করেছি, কিন্তু এখান থেকেই শেখার সুযোগ আছে। আমি বিশ্বাস করি, ছেলেরা পরের ম্যাচে ভালো করবে।’
আগামী শনিবার একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় ওয়ানডে। সিরিজে টিকে থাকতে হলে সেই ম্যাচে জয় পেতেই হবে বাংলাদেশকে। আফগানদের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে হোয়াইটওয়াশের স্বাদ পাওয়া দলটি এবার ওয়ানডেতে প্রথম ম্যাচে হারের বদলা নিতে পারে কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়।





