ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন বলেছেন, “আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার স্বচ্ছভাবে এবং যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়েছে। যদি রায়ে শেখ হাসিনাকে খালাস দেওয়া হয়, আমি সবচেয়ে খুশি হব।”
সোমবার (১৭ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, “আমি আমার মক্কেলের খালাস চাই—এটা স্বাভাবিক। প্রত্যেকেই খালাস চাইবে।” আইনজীবী আশ্বাস দেন, মামলার বিচার ভালোভাবেই সম্পন্ন হয়েছে।
মামলায় পলাতক রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। অপরদিকে, রাজসাক্ষী সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।
সোমবার বেলা ১১টার পর ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল রায় ঘোষণা করবেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
রায় ঘোষণা উপলক্ষে ট্রাইব্যুনাল ও সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ, র্যাব, এপিবিএন, বিজিবি এবং সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও তৎপর। নিরাপত্তার কারণে রোববার সন্ধ্যা থেকে দোয়েল চত্বর থেকে শিক্ষাভবনমুখী সড়কে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে এবং জনসাধারণের চলাচল সীমিত করা হয়েছে।
এই মামলার রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করা হয় ১৩ নভেম্বর। ট্রাইব্যুনাল-১-এর তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল ওই দিন সিদ্ধান্ত নেন।
মামলায় মোট ২৮ কার্যদিবসে ৫৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। প্রসিকিউশন এবং ডিফেন্সের যুক্তিতর্ক বিনিময় হয় ৯ কার্যদিনে। ২৩ অক্টোবর রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ও রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেনের সমাপনী বক্তব্য শেষে রায়ের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
প্রসিকিউশন শেখ হাসিনা ও কামালের সর্বোচ্চ সাজা চেয়েছে। রাজসাক্ষী হওয়ায় চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিষয়টি ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ তার খালাসের আবেদন জানিয়েছেন।
মামলায় তিন আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে উসকানি, মারণাস্ত্র ব্যবহার, আবু সাঈদ হত্যা, চানখাঁরপুলে হত্যা ও আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো। আনুষ্ঠানিক অভিযোগের নথি মোট ৮ হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠা, যার মধ্যে তথ্যসূত্র ২ হাজার ১৮ পৃষ্ঠা, জব্দতালিকা ও দালিলিক প্রমাণাদি ৪ হাজার ৫ পৃষ্ঠা এবং শহীদদের তালিকা ২ হাজার ৭২৪ পৃষ্ঠা। সাক্ষ্য দেওয়া হয়েছে ৮৪ জনকে। ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ১২ মে চিফ প্রসিকিউটরের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়।





