ইবি প্রতিনিধি:
শহীদ শরীফ ওসমান হাদির বিচারের দাবিতে আন্দোলনরত অবস্থায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরের উপর গুলি ও অন্যান্য সদস্যদের উপর হামলার প্রতিবাদে কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) বিকেল পৌনে ছয়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া মোড় থেকে মিছিল শুরু করে শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে।
এসময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ইবি শাখার আহ্বায়ক এস এম সুইট, শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফিসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
অর্থনীতি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ত্বকী ওয়াসিফ বলেন, \"আমরা আগে দেখতে পেতাম যখন কেউ কোনো বিচারের দাবী জানাতো তাদের উপর ন্যক্কারজনক হামলা হতো। আমরা জানতে চাই ইন্টেরিম, পুলিশ কাদের হয়ে কাজ করে? আজকে ৫০ দিন হয়ে গেলেও আপনারা বিচার করতে পারেননি, উল্টো যারা বিচার দাবী করেছে তাদের উপর আপনারা হামলা করেছেন! আসিফ নজরুল যদি কিছু করতে না পারেন তাহলে আপনিও দিল্লি চলে যান।\"
শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচিতে পুলিশ লীগের কিছু প্রেতাত্মা যাদেরকে হাসিনা রেখে গিয়েছিলো তারা আজকে আমার ভাই-বোনদের উপর গুলি করেছে, তারা মনে করেছে গুলি করে তাদের থামিয়ে দেওয়া যাবে। আমি তাদেরকে হুশিয়ারি দিতে চাই, জুলাইতে দুই হাজার শিক্ষার্থীকে শহীদ করেও তাদেরকে দমাতে পারেননি, আপনারা শিক্ষার্থীদেরকে যত দমিয়ে দিতে চাইবেন, শিক্ষার্থীরা তত বেশি আগুনের স্ফুলিঙ্গের মতো করে উঠবে। শরীফ ওসমান হাদী বলে গিয়েছিলো যে, ''আমাকে মেরে ফেললে অন্তত বিচারটা কইরেন''। আমরা দেখছি সেই বিচার না করার কারণে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীরা শিক্ষার্থীদের উপর আরো চড়াও হচ্ছে। আজকে যে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হামলা চালিয়েছে তাদেরকে অতিসত্বর গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করুন।
এ সময় শাখা বৈছাআ'র আহ্বায়ক এস এম সুইট বলেন, এই ইন্টেরিম সরকার দেশের কোনো সংস্কার করতে পারে নাই, আমরা বিগত আমলে পুলিশকে যেমন দেখেছি, এখনও তাদের আচরণ পরিবর্তন হয় না। যাদের রক্তের উপর এই ইন্টেরিম দাঁড়িয়ে আছে তাদের উপর তারা আজ হামলা করেছে। ১৬ বছরের হাসিনাকে আমরা যেভাবে ভারতে পাঠিয়েছি, আপনারা যদি আমাদের দাবী মেনে না নেন উল্টো আমাদের ভাইদেরকে আহত করেন তাহলে আপনাদেরও একই পরিণতি হবে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি ) ইনকিলাব মঞ্চ ঢাকায় তাদের দীর্ঘ চলমান শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের দাবীতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে, এতে পুলিশ গরম পানি, সাউন্ড গ্রেনেড ও গুলি চালায়, এতে আব্দুল্লাহ আল জাবের সহ ইনকিলাব মঞ্চের অনেকেই আহত হন।
হারুন অর রশিদ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি





