ইবি প্রতিনিধি: পূর্বের সব দুর্নীতি ও অনিয়মের শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবিতে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহর কাছে এ দাবিতে একটি স্মারকলিপি পেশ করেন।
এসময় সংগঠনটির আহ্বায়ক এস এম সুইট, মুখ্য সংগঠক গোলাম রব্বানী, সিনিয়র যুগ্ম-সদস্য সচিব মোবাশ্বির আমিনসহ সংগঠনের অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, গত ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত দুর্নীতি ও অনিয়মসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানানো হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত সকল ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়মের পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশ সংক্রান্ত দাবিতে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় একটি জাতির বিবেক ও নৈতিক নেতৃত্বের কেন্দ্র। অথচ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, নিয়োগ, উন্নয়ন প্রকল্প, আর্থিক লেনদেন ও অবকাঠামোগত কার্যক্রমে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এসব অভিযোগের স্বচ্ছ ও প্রাতিষ্ঠানিক নিষ্পত্তির একমাত্র পথ হলো একটি পূর্ণাঙ্গ, তথ্যভিত্তিক ও জনসম্মুখে প্রকাশযোগ্য শ্বেতপত্র।
স্মারকলিপিতে সংগঠনটি দাবি করেন, ইবিতে সংঘটিত পূর্বের সকল ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়মের বিস্তারিত তথ্যসম্বলিত শ্বেতপত্র আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ করতে হবে। অন্যথায় শিক্ষার্থী সমাজ শান্তিপূর্ণ কিন্তু কঠোর কর্মসূচি গ্রহণে বাধ্য হবে বলে হুঁশিয়ারি দেয় সংগঠনটি। এ পরিস্থিতির দায়ভার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও অনিয়ম-দুর্নীতির পৃষ্ঠপোষকতাকারীদের বহন করতে হবে বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।
জানা যায়, গতবছরের ১৬ মার্চ 'বিগত ১৫ বছরের সকল অনিয়ম ও দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশক কমিটি' নামে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের দুর্নীতি তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. ফারুকুজ্জামান খানকে আহ্বায়ক করা হয়। কমিটিকে ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে উপাচার্যের নিকট তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হলেও তা এখনো দিতে পারেনি তারা।
কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. ফারুকুজ্জামান খান বলেন, আমাদের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। আমরা মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করিনাই। আমি আশা করছি আগামী শনিবারে সব কাগজপত্র জমা দিয়ে দেব।
'দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করবেন কি না' জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুর্নীতির শ্বেতপত্র না, বিগত সময়ে নিয়ম কানুনের ব্যত্যয় সংক্রান্ত যে সমস্ত ডকুমেন্ট আমরা পেয়েছি, সেগুলো তালিকা করে জমা দিয়ে দেব। আগামীকাল আমাদের কমিটির একটি মিটিং আছে। মিটিং করার পর চূড়ান্তভাবে বলতে পারব যে কী করছি। যেহেতু কমিটির কাছে প্রচুর পরিমাণে কাগজপত্র রয়েছে, সেনসিটিভ পেপারস, সুতরাং আমাদের একটু হিসাব করেই সব জমা দিতে হবে।
৭২ ঘণ্টার মধ্যে শ্বেতপত্র প্রকাশ করা সম্ভব কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা তো অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ব্যাপার। অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কী করবে তা বলতে পারি না।





