কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে পাকিস্তানজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে দেশটির পুলিশ। মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) রাত থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৫০ জনের বেশি সমর্থককে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ইমরান খানের গ্রেপ্তারের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি ঘিরে এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়।
\r\nপুলিশ ও সরকারি সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত দেশজুড়ে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে ১২০ জনের বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়। এছাড়া পাঞ্জাব প্রদেশের লাহোর শহর থেকে আরও অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
\r\nলাহোরে একটি আদালতের সামনে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের প্রায় ২০০ জন কর্মী ও সমর্থক ‘ইমরান খানের মুক্তি চাই’ স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ করেন। শহরের আরও কিছু অংশে ছোট ছোট দলীয় ব্যানারে বিক্ষোভ দেখা যায়।
\r\nলাহোর পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক ফয়সাল কামরান রয়টার্সকে জানান, “রাস্তাঘাট অবরোধের চেষ্টা করায় ৩৬ জন পিটিআই কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”
\r\nপিটিআই মুখপাত্র জুলফিকার বুখারির দাবি, শুধুমাত্র লাহোর থেকেই পুলিশ দুই শতাধিক নেতা-কর্মীকে আটক করেছে। দলের মিডিয়া উইং থেকে প্রকাশিত একাধিক ভিডিওতে বিক্ষোভ ও পুলিশের ধরপাকড়ের দৃশ্য তুলে ধরা হয়। তবে রয়টার্স স্বতন্ত্রভাবে এসব ভিডিওর সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি।
\r\nএদিকে, পাঞ্জাবের আঞ্চলিক সরকারের মুখপাত্র উঝমা বুখারি পিটিআইকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ বলে অভিহিত করেছেন। এই মন্তব্য পিটিআই নেতৃত্ব তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এটি শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমনের অজুহাত মাত্র।
\r\nউল্লেখ্য, ইমরান খান বর্তমানে বিভিন্ন মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে কারাবন্দি রয়েছেন। তার দল পিটিআই গত দুই বছর ধরে তাকে মুক্তির দাবিতে নানা কর্মসূচি চালিয়ে আসছে। মঙ্গলবারের বিক্ষোভ ছিল তারই সর্বশেষ প্রকাশ।
\r\nবিক্ষোভ ও ধরপাকড় পরিস্থিতিতে দেশটির রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও গভীর হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
খবর: রয়টার্স।





