ইরানের সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের অন্যতম বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওয়েইজম্যান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্সে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। দেশটির মধ্যাঞ্চলের রেহোভত শহরে অবস্থিত এই খ্যাতনামা পাবলিক গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ল্যাবরেটরিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ছড়িয়ে পড়ে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।
\r\nশনিবার (১৪ জুন) দিবাগত রাতের ওই হামলায় ওয়েইজম্যান ইনস্টিটিউটের একটি ভবন ছিল অন্যতম লক্ষ্যবস্তু, যেখানে উচ্চ প্রযুক্তির গবেষণাগার এবং সংবেদনশীল বৈজ্ঞানিক উপকরণ সংরক্ষিত ছিল।
\r\nদ্য নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, হামলার পর প্রকাশিত কিছু ছবিতে ভবনের একটি বড় অংশে ভয়াবহ আগুন ছড়িয়ে পড়তে দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, হামলার সময় ভবনের ভেতরে কিছু লোক আটকে পড়েছিল।
\r\nহিব্রু সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাত দিয়ে জানা গেছে, ভবনের ভেতরে দাহ্য রাসায়নিক ও গবেষণাসংক্রান্ত উপকরণ থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। প্রচণ্ড ধোঁয়ার কারণে উদ্ধার তৎপরতা বিঘ্নিত হয়।
\r\nটাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, আগুন লাগার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখনো পর্যন্ত হতাহতের কোনো নিশ্চিত খবর পাওয়া যায়নি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৈজ্ঞানিক অবকাঠামোর ক্ষতি “অত্যন্ত গুরুতর” এবং ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত মাত্রা নির্ধারণে বিশেষজ্ঞ দল কাজ শুরু করেছে।
\r\nবিশ্লেষকরা বলছেন, এই হামলা শুধু সামরিক স্থাপনাকে নয়, বরং ইসরায়েলের বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকেও লক্ষ্যবস্তু করেছে। এটি চলমান যুদ্ধের এক নতুন মাত্রা—যা দেশটির ‘বুদ্ধিবৃত্তিক কাঠামো’তেও সরাসরি আঘাত হানতে শুরু করেছে।
\r\nএদিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই হামলার বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি। তবে ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে জরুরি বৈঠক চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে অভ্যন্তরীণ সূত্র।





