মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা কমানো এবং ওয়াশিংটন-তেহরানের মধ্যে শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে পাকিস্তান। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শনিবার (২৮ মার্চ) পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে এক ঘণ্টার বেশি সময় টেলিফোনে আলোচনা করেন।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও) জানায়, দুই নেতার মধ্যে অঞ্চলটিতে চলমান সংঘাত এবং শান্তি প্রচেষ্টা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইরানি প্রেসিডেন্টকে জানান, শান্তি আলোচনার জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে তিনি, উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির যুক্তরাষ্ট্র, গালফভুক্ত দেশসহ বিভিন্ন মুসলিম দেশের সঙ্গে নিবিড় কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রেখেছেন। তিনি পাকিস্তানের এই উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর শক্তিশালী সমর্থনের বিষয়টিও উল্লেখ করেন।
শাহবাজ শরিফ ইরানের ওপর ইসরায়েলের হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং বলেন, এই কঠিন সময়ে পাকিস্তান ইরানের জনগণের পাশে আছে। বিশেষ করে গতকাল ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলায় ১,৯০০ জনেরও বেশি প্রাণহানির ঘটনায় তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পাকিস্তানের আন্তরিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন, তবে মধ্যস্থতা বা আলোচনার পরিবেশ তৈরির জন্য দেশগুলোর মধ্যে আগে আস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, তুরস্ক ও মিশরের সহযোগিতায় পাকিস্তান বর্তমানে মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করছে। ইতোমধ্যে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার জানিয়েছেন, ইসলামাবাদের মাধ্যমে দেওয়া বার্তার ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলছে। এছাড়া ১৫ দফার একটি মার্কিন রূপরেখাও ইরানের বিবেচনাধীন রয়েছে।
উত্তেজনা কমাতে পাকিস্তান আগামী ২৯-৩০ মার্চ সৌদি আরব, তুরস্ক এবং মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের নিয়ে একটি বিশেষ বৈঠকের আয়োজন করছে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাত নিরসনে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হবে।