গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর টানা হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৯২ জন ফিলিস্তিনি। বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এই হামলা চলে। এর মধ্যে বেশিরভাগ হামলা চালানো হয় গাজা সিটি ও উত্তরের বিভিন্ন এলাকায়।
\r\nগাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ৬৪ জন ছিলেন গাজা সিটি ও উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দা, এবং আরও ১৬ জন মারা যান নেতজারিম করিডরের কাছে ত্রাণের জন্য অপেক্ষারত অবস্থায় ইসরায়েলি গুলিতে।
\r\nক্ষুধা ও চরম দারিদ্র্যের মধ্যে গাজার মানুষ প্রতিদিন নেতজারিম করিডরে জড়ো হন, যেখানে বিতরণ করা হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের ত্রাণ। তবে জাতিসংঘ এই সংস্থাকে ত্রাণকে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ এনে সমালোচনা করেছে।
\r\nইসরায়েলি গুলির প্রত্যক্ষদর্শী বাসাম আবু শার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন,“খাবার পাওয়ার আশায় মানুষ রাতে সেখানে জড়ো হয়েছিল। রাত একটার দিকে ইসরায়েলি সেনারা গুলি শুরু করে। এরপর ট্যাংক, ড্রোন ও বিমান থেকে একযোগে বোমাবর্ষণ চলে।”
তিনি আরও বলেন,
\r\n“আমরা কাউকে সাহায্য করতে পারিনি, এমনকি নিজেরাও পালাতে পারিনি। বিশাল ভিড়ের কারণে বাঁচার কোনো উপায় ছিল না।”
\r\nআল জাজিরার গাজা প্রতিনিধি তারেক আবু আজ্জুম বলেন,“ত্রাণকেন্দ্রে হামলা এখন যেন প্রতিদিনের রুটিন। তিন মাসের বেশি সময় ধরে সীমান্ত অবরুদ্ধ থাকায় মানুষ না খেয়ে মরছে। এক বস্তা আটা, কয়েক বোতল পানি বা কিছু খাবারের জন্য প্রাণ ঝুঁকি নিয়ে তারা নেতজারিম করিডরে ছুটছে।”
\r\nতিনি বলেন,“সব মানবিক করিডর এখন মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছে।”
\r\nএদিকে, গতকাল গাজার আল-শাতি শরণার্থীশিবিরে মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়ার জন্য অস্থায়ী তাঁবুতে জড়ো হওয়া ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত হন ১৩ জন।
\r\nএ ছাড়া জাবালিয়ায় কয়েকটি বাড়িতে চালানো হয় ব্যাপক বিমান হামলা।
\r\n২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধে এ পর্যন্ত ৫৫ হাজার ৭০৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৩০ হাজার ১০১ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই যুদ্ধকে ‘গণহত্যা’ বলে আখ্যা দিয়েছে এবং অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ও পূর্ণ মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। তথ্যসূত্র : আল-জাজিরা
\r\n




