নিউইয়র্ক সিটির প্রথম মুসলিম মেয়র জোহরান মামদানির বিরুদ্ধে দ্বিচারিতার অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচনি সময় তিনি গাজার উপর ইসরায়েলের অভিযান ও ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির সমালোচনা করে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা পান। তবে তথ্য স্বাধীনতা আইনের আওতায় প্রাপ্ত নথি থেকে জানা গেছে, মেয়রের শহরের মালিকানাধীন ব্রুকলিন নেভি ইয়ার্ড কমপ্লেক্সে বসে থাকা সামরিক সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী কোম্পানি ক্রাই প্রিসিশন মার্কিন ইমিগ্রেশন এবং সীমান্ত বাহিনী (আইসিই) ও ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর জন্য সরঞ্জাম সরবরাহ করছে।


\r\n

সরকারি নথি অনুযায়ী, ক্রাই প্রিসিশন ২০০২ সাল থেকে কমপ্লেক্সে আছে এবং নেভি ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষ কোম্পানিটিকে লাখ লাখ ডলারের ভাড়া ছাড় ও নির্মাণ ভর্তুকি দিয়েছে। ২০১২ সালের লিজের প্রথম বছরের পুরো ভাড়া মওকুফ হওয়ার ফলে কোম্পানিটির সাশ্রয় হয়েছে কমপক্ষে ৩ লাখ ৪০ হাজার ডলার, পাশাপাশি ফেডারেল ট্যাক্স ক্রেডিট ও অন্যান্য ভর্তুকি মিলিয়ে ১০ লাখ ডলারেরও বেশি সুবিধা পেয়েছে।


\r\n

এদিকে মেয়র জোহরান মামদানির প্রশাসন সম্প্রতি শহরের সংস্থাগুলোকে আইসিইর সঙ্গে সহযোগিতা না করতে নির্দেশ দিয়েছেন এবং শহরকে ‘অভয়ারণ্য’ মর্যাদা দিয়েছেন। সেই সঙ্গে গাজার গণহত্যার বিরোধিতায় তিনি সক্রিয়। কিন্তু তারই শহরের মালিকানাধীন ভবনে বসে কোম্পানি একই বাহিনীর জন্য অস্ত্র ও সরঞ্জাম তৈরি করছে।


\r\n

স্থানীয় আন্দোলন “ডিমিলিটারাইজ ব্রুকলিন নেভি ইয়ার্ড” ক্রাই প্রিসিশনকে ভবন থেকে উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছে। মেয়রের কার্যালয় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। সংগঠনের এক মুখপাত্র বলেছেন, “শহর তাদের ভর্তুকি দিচ্ছে, আর সেই জায়গায় বসে তারা গণহত্যাকারী বাহিনীর জন্য অস্ত্র বানাচ্ছে—এটা লজ্জাজনক।”