ইসলাম নারীদের সর্বোচ্চ মর্যাদা ও সম্মান দিয়েছে। ইসলাম আগমনের পূর্বে জাহিলিয়াতের অন্ধকার যুগে নারীরা ছিল অবহেলিত, অধিকারবঞ্চিত এবং নিরাপত্তাহীন। কন্যাসন্তানদের জীবন্ত মাটিচাপা দেওয়ার মতো নির্মমতা তখন প্রচলিত ছিল। ইসলাম এই বর্বরতা বন্ধ করে নারীকে সম্মানিত জীবনযাপনের অধিকার দিয়েছে।

নারী যখন মা:
মায়ের মর্যাদা ইসলামে অপ্রতিদ্বন্দ্বী। কোরআনে বলা হয়েছে, “তোমার প্রতিপালক আদেশ দিয়েছেন, তিনি ছাড়া কাউকে উপাসনা করো না এবং মা-বাবার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করো।” (সুরা বনি ইসরাঈল, আয়াত ২৩)।
এক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, সদ্ব্যবহারের সবচেয়ে বেশি অধিকারী প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয়জন হচ্ছেন ‘তোমার মা’, এরপর ‘তোমার পিতা’। (মুসলিম, হাদিস ৬৩৯৪)

নারী যখন স্ত্রী:
ইসলাম স্ত্রীর প্রতি সদ্ব্যবহারের নির্দেশ দেয়। কোরআনে বলা হয়েছে, “আল্লাহ তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকেই স্ত্রী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা প্রশান্তি পাও। তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন।” (সুরা রুম, আয়াত ২১)।
রাসুল (সা.) বলেছেন, “তোমরা সবাই দায়িত্বপ্রাপ্ত এবং তোমাদের সবাইকে জিজ্ঞাসা করা হবে।” (বুখারি, হাদিস ৫১৮৮)

নারী যখন মেয়ে:
ইমাম শাফেয়ি (রহ.) বলেছেন, ছেলেসন্তান আল্লাহর নিয়ামত, মেয়েসন্তান পুণ্য। মেয়ের লালন-পালনে ধৈর্য ধরলে সে সন্তান জান্নাতের প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়। (তিরমিজি, হাদিস ১৯১৩)

নারী যখন বোন:
রাসুল (সা.) বলেছেন, “যার তিনটি মেয়ে বা তিনটি বোন আছে এবং সে সদ্ব্যবহার করে, সে জান্নাতে যাবে।” (তিরমিজি, হাদিস ১৯১২)

নারী যখন অনাত্মীয়:
নারী যদি অনাত্মীয়ও হয়, ইসলামে তার সম্মান রক্ষার বিষয়ে কঠোর নির্দেশ রয়েছে। বনু কাইনুকা ইহুদি গোত্রের সঙ্গে এক মুসলিম নারীর সম্ভ্রমহানির ঘটনায় যুদ্ধ পর্যন্ত হয়েছিল। একজন সাহাবি ওই নারীর সম্মান রক্ষায় প্রাণ উৎসর্গ করেছিলেন।

সবশেষে, ইসলামের প্রতিটি স্তরেই নারীর মর্যাদা নিশ্চিত করা হয়েছে। মা, মেয়ে, স্ত্রী কিংবা বোন—প্রত্যেক ভূমিকায় ইসলাম নারীকে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে প্রতিষ্ঠা দিয়েছে। এ থেকেই প্রতীয়মান হয়, ইসলাম নারীকে কেবল সম্মানই দেয়নি, বরং তাদের অধিকার সুরক্ষায় সব ধরনের পদক্ষেপ নিশ্চিত করেছে।