ইসলামে প্রতিবেশীর প্রতি সদাচার ও সম্মান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক জীবনে মানুষ একাকী বসবাস করতে পারে না, তাই প্রতিবেশীর সঙ্গে উত্তম আচরণ ঈমানের পূর্ণতা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথ।
কুরআনের নিসা সূরার ৩৬ আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, “তোমরা ইবাদত করো আল্লাহর জন্য, তাঁর সঙ্গে কোনো কিছুকে শরিক কোরো না। আর সদ্ব্যবহার করো মাতা-পিতার সঙ্গে, নিকটাত্মীয়ের সঙ্গে, এতিম, মিসকিন, নিকটাত্মীয় প্রতিবেশী, অনাত্মীয় প্রতিবেশী, পার্শ্ববর্তী সাথি, মুসাফির এবং তোমাদের দাস-দাসীদের সঙ্গে। নিশ্চয়ই আল্লাহ পছন্দ করেন না তাদেরকে যারা দাম্ভিক ও অহংকারী।”
নবীজি (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের ওপর বিশ্বাস রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশীকে সম্মান করে।” (সহিহ বুখারি, হাদিস ৬০১৯)
প্রতিবেশীকে কষ্ট দেওয়ার বিপর্যয় ও ক্ষতি সম্পর্কে নবীজি (সা.) উল্লেখ করেছেন:
ঈমানের অপূর্ণতা: “যে ব্যক্তির অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ থাকে না, সে মুমিন নয়।” (সহিহ বুখারি, হাদিস ৬০১৬)
জান্নাত থেকে বঞ্চিত হওয়া: “যে লোকের প্রতিবেশী তার অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকে না, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস ৪৬)
গুরুতর অপরাধ: নবীজি (সা.) বলেছেন, প্রতিবেশীর স্ত্রীর সঙ্গে ব্যভিচারের অপরাধ অন্য যে কোনো ব্যভিচারের চেয়ে গুরুতর। (মুসনাদে আহমদ, হাদিস ২৩৩৪২)
আল্লাহ ও মানুষের অভিশাপ: প্রতিবেশীকে কষ্ট দেওয়ার ফলে আল্লাহর অভিশাপ ও মানুষের ক্ষতি হয়। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৫১৫৩)
ইবাদতে ফলপ্রাপ্তি হারানো: যত ইবাদতই করা হোক, যদি প্রতিবেশীকে কষ্ট দেওয়া হয়, তা ফলপ্রদ হবে না। (মিশকাতুল মাসাবিহ)
এই আয়াত ও হাদিসগুলো থেকে বোঝা যায়, মুসলমানের করণীয় হলো পারস্পরিক আন্তরিকতা বজায় রাখা, প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেওয়া এবং সদাচার ও সম্মান প্রদর্শন করা।





