রাজশাহী অঞ্চলের তিন জেলার নিম্ন আয়ের মানুষ বৃহত্তর ঋণের বৃত্তে আটকা পড়েছেন। কিছুতেই এ বৃত্তের নাগপাশ থেকে মুক্তি মিলছে না। বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) এবং সুদের কারবারিদের কাছ থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে পড়ছেন বেকায়দায়। 

ঋণের অর্থ উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ না করে সাংসারিক প্রয়োজনে ব্যয় করছেন। ফলে পরিশোধ করতে না পারায় পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠেছে। এনজিওগুলো টার্গেট পূরণে যাচাই-বাছাই ছাড়াই ঋণ দিচ্ছে। ঋণ পরিশোধের জন্য এনজিও এবং সুদ কারবারিদের অব্যাহত চাপের মুখে ঋণগ্রস্তরা হয়ে পড়ছেন দিকভ্রান্ত। মানসিক যন্ত্রণায় অনেকেই এখন এলাকাছাড়া। অনেকেই অভাবের তাড়নায় হতাশ হয়ে বেছে নিচ্ছেন আত্মহননের পথ। ঋণের বৃত্তে বন্দি হয়ে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। বৃহত্তর রাজশাহীর তিনটি জেলা-রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোরে এ ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে। এ ধরনের মৃত্যু নিয়ে অবশ্য সরকারি কোনো পরিসংখ্যান নেই। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এমন ঘটনা রাজশাহী অঞ্চলে বেশি ঘটছে। 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোর জেলায় ১১ জন আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন। গত ৫ দিনে শুধু রাজশাহীর দুটি উপজেলাতেই ছয়জনের মৃত্যু ঘটেছে। ঋণ আর অভাবের কারণে ১৫ আগস্ট গভীর রাতে স্ত্রী, ছেলে ও শিশুকন্যাকে হত্যার পর রাজশাহীর পবা উপজেলার বামনশিকড় গ্রামের মিনারুল ইসলামের আত্মহত্যার ঘটনাটি দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।