বর্তমানে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের নামে এমন কিছু আচার-প্রথা পালিত হচ্ছে যা সরাসরি ইসলামের মৌলিক আকিদা ও বিশ্বাসের সাথে সাংঘর্ষিক। অনেক ক্ষেত্রে একে 'বাঙালি সংস্কৃতি' বলা হলেও এর ভেতরে মঙ্গল শোভাযাত্রা, উলুধ্বনি বা বিভিন্ন মূর্তির আবক্ষ প্রদর্শনী মূলত ধর্মীয় উপাসনার অংশ, যা মুসলিম হিসেবে আমাদের জন্য বর্জনীয়।


১. বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুকরণ রাসূলুল্লাহ (সা.) স্পষ্টভাবে মুসলিমদের নিজস্ব স্বকীয়তা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। অন্য কোনো ধর্মের বিশেষ ধর্মীয় উৎসবের অনুকরণ করা ইসলামে নিষিদ্ধ। দলিল: مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ \"যে ব্যক্তি অন্য কোনো জাতির সাথে সাদৃশ্য রাখবে (তাদের সংস্কৃতি বা ধর্মীয় রীতি অনুসরণ করবে), সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত গণ্য হবে।\" (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং: ৪০৩১)


২. শিরকের সংমিশ্রণ ও মঙ্গল কামনা পহেলা বৈশাখের বড় একটি অংশ হচ্ছে 'মঙ্গল শোভাযাত্রা'। ইসলামি বিশ্বাস মতে, ভালো-মন্দের মালিক একমাত্র আল্লাহ তাআলা। কোনো প্রাণী বা জড় বস্তুর প্রতিকৃতি বহন করে 'মঙ্গল' আসবে এমন বিশ্বাস রাখা শিরকের পর্যায়ভুক্ত। কুরআনের রেফারেন্স: وَإِن يَمْسَسْكَ اللَّهُ بِضُرٍّ فَلَا كَاشِفَ لَهُ إِلَّا هُوَ ۖ وَإِن يُرِدْكَ بِخَيْرٍ فَلَا رَادَّ لِفَضْلِهِ \"আর আল্লাহ যদি তোমাকে কোনো কষ্ট দিতে চান, তবে তিনি ছাড়া তা দূর করার কেউ নেই। আর তিনি যদি তোমার কোনো কল্যাণ চান, তবে তাঁর অনুগ্রহ রুখে দেওয়ারও কেউ নেই।\" (সূরা ইউনুস, আয়াত: ১০৭)


৩. উৎসব পালনে শরীয়তের সীমা মদিনার আনসাররা বছরের শুরুতে দুটি উৎসব (নওরোজ ও মেহেরজান) পালন করত। রাসূলুল্লাহ (সা.) তা পরিবর্তন করে মুসলিমদের জন্য ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উপহার দিয়েছেন। এর বাইরে অন্য কোনো বিজাতীয় আনন্দ উৎসব পালন করার সুযোগ ইসলামে নেই। দলিল: كَانَ لَكُمْ يَوْمَانِ تَلْعَبُونَ فِيهِمَا وَقَدْ أَبْدَلَكُمُ اللَّهُ بِهِمَا خَيْرًا مِنْهُمَا يَوْمَ الْفِطْرِ وَيَوْمَ الأَضْحَى \"তোমাদের দুটি দিন ছিল যাতে তোমরা খেলাধুলা করতে। আল্লাহ তাআলা সেই দুটির পরিবর্তে তোমাদেরকে তার চেয়ে উত্তম দুটি দিন দিয়েছেন; ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা।\" (সুনানে নাসায়ী, হাদিস নং: ১৫৫৬)


সংস্কৃতি হতে হবে নির্মল এবং তাওহিদ ভিত্তিক। পহেলা বৈশাখের নামে যে অপসংস্কৃতি আজ ছড়িয়ে পড়ছে, তা থেকে বেঁচে থাকা প্রতিটি মুমিনের ঈমানি দায়িত্ব। আমরা নতুন বছরকে বরণ করতে পারি আল্লাহর শুকরিয়া এবং নেক আমলের মাধ্যমে, শিরক বা বিজাতীয় কোনো প্রথার মাধ্যমে নয়।


লেখক,

মাওলানা মির্জা নাইমুল হাসান বেগ