ইন্টারনেটের উন্মুক্ত জ্ঞানের ভান্ডার হিসেবে একসময় প্রায় একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল উইকিপিডিয়ার। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)–নির্ভর সার্চ ইঞ্জিন ও চ্যাটবটের যুগে সেই প্রভাব এখন কমে আসছে। পরিচালন সংস্থা উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, এআই প্রযুক্তি সরাসরি সারাংশ ও উত্তর তৈরি করে ব্যবহারকারীদের দিচ্ছে, ফলে মানুষ আর মূল উৎস—উইকিপিডিয়া সাইটে—যাচ্ছেন না।
প্রতিষ্ঠানটির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গুগল, ওপেনএআইসহ বড় সার্চ সেবা এখন বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে তথ্য নিয়ে সংক্ষেপে উপস্থাপন করছে। এতে ব্যবহারকারীদের আর উৎস লিংকে ক্লিক করার প্রয়োজন হচ্ছে না। ফলস্বরূপ, উইকিপিডিয়ার বিশ্বব্যাপী ট্রাফিক বা দর্শনার্থীর সংখ্যা দৃশ্যমানভাবে কমে গেছে।
উইকিমিডিয়া বলছে, বিষয়টি শুধু পাঠকসংখ্যা হ্রাস নয়, বরং মাধ্যমটির অস্তিত্ব ও আর্থিক স্থিতিশীলতার সঙ্গেও সম্পর্কিত। কারণ, দর্শনার্থীর সংখ্যা কমে গেলে বিজ্ঞাপন ও অনুদান নির্ভর আয়ের ওপরও চাপ পড়ে।
তবে সমস্যা শুধু দর্শক হারানো নয়। উইকিপিডিয়ার তথ্যে প্রবেশ করছে নানা ধরনের বট, যারা মানুষের ছদ্মবেশে কনটেন্ট সংগ্রহ করছে এবং তা ব্যবহার করছে এআই সার্চ ইঞ্জিন ও চ্যাটবটগুলোতে। সম্প্রতি ব্রাজিল থেকে এমনই অস্বাভাবিক ট্রাফিক শনাক্ত করা হয়, যেখানে মানুষের তুলনায় বট কার্যক্রম অনেক বেশি ছিল।
এ অভিযোগ শুধু উইকিপিডিয়ার নয়। বিশ্বের বড় বড় সংবাদমাধ্যমও অভিযোগ করেছে, এআই সার্চ প্ল্যাটফর্মগুলো তাদের তৈরি কনটেন্ট ব্যবহার করছে, কিন্তু পাঠকরা মূল ওয়েবসাইটে যাচ্ছেন না। গুগল ইতিমধ্যে মোবাইল ও ওয়েব উভয় প্ল্যাটফর্মে ‘এআই সারাংশ মোড’ চালু করেছে, যা সরাসরি সার্চ ফলাফলে সংক্ষিপ্ত উত্তর দেখায়। এতে মানুষ প্রাথমিক তথ্য সেখানেই পেয়ে যাচ্ছেন।
তবু প্রযুক্তির এই পরিবর্তনকে প্রতিরোধ নয়, বরং মানিয়ে নেওয়ার পথেই হাঁটছে উইকিমিডিয়া। তারা জানিয়েছে, নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে যাতে উইকিপিডিয়ার কনটেন্ট দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহৃত হয় এবং উৎস হিসেবে তার মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকে। পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উইকিপিডিয়ার উপস্থিতি আরও জোরদার করার পরিকল্পনাও নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।





