জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশকে বিপদগ্রস্ত করার একটি পরিকল্পনা নিয়ে একটি দল এগোচ্ছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি তাদের পরাজিত করতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে দখলদারমুক্ত, আধিপত্যবাদমুক্ত ও সন্ত্রাসমুক্ত করতে হবে।


রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্ট খেলার মাঠে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি।


ভোটের দিন কেন্দ্র পাহারা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারি যদি ব্যর্থ হয়, তবে ৫ আগস্টও ব্যর্থ হয়ে যাবে। আমরা যেভাবে ৫ আগস্ট সফল করেছি, সেভাবেই সেদিনও সফল করবো এবং বিজয় নিয়ে ঘরে ফিরবো।”


ঢাকা-১১ আসনের নাগরিক সুযোগ-সুবিধার ঘাটতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রায় ১১ লাখ মানুষের বসবাস হলেও এই আসনে পর্যাপ্ত নাগরিক সুবিধা নেই। খেলার মাঠ, স্কুল ও হাসপাতালের সংকট রয়েছে। বাড্ডা ও ভাটারার প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ ক্ষুদ্র ব্যবসা, দিনমজুরি ও খেটে খাওয়া পেশার সঙ্গে যুক্ত। একই সঙ্গে এখানে শিক্ষিত বেকারের হার প্রায় ৮ থেকে ১০ শতাংশ।


নাহিদ ইসলাম বলেন, এই এলাকায় কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত। স্বাস্থ্যসেবা প্রায় পুরোপুরি বেসরকারি খাতনির্ভর, এই আসনে কোনো সরকারি হাসপাতাল নেই। ঢাকা-১১ আসনে একটি সরকারি হাইস্কুলও নেই এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে মাত্র ১৫টি। ফলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাত পুরোপুরি প্রাইভেট সেক্টরের ওপর নির্ভরশীল। বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই প্রায় ৬০ শতাংশ রাস্তা পানিতে তলিয়ে যায়, সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতার।


এর আগে জনসভায় বক্তব্য দেন এনসিপির মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তিনি বলেন, অনেকেই নির্বাচনের সময় সরকার গঠনের স্বপ্ন দেখছেন, কিন্তু তাদের প্রচারণায় গিয়ে দেখা যাচ্ছে তারা বিভিন্ন এলাকায় ভুল ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছেন। নীলফামারীতে মেডিকেল কলেজ থাকা সত্ত্বেও সেখানে মেডিকেল কলেজ করার কথা বলা হচ্ছে, কুমিল্লায় ২৫ বছর ধরে ইপিজেড থাকা সত্ত্বেও সেখানে নতুন করে ইপিজেড করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি ময়মনসিংহে ভুট্টা চাষের এলাকায় সয়াবিন চাষের কথা বলা হচ্ছে।


তিনি বলেন, “যে দেশ সম্পর্কে আপনারা বাস্তবতা জানেন না, মানুষের, কৃষকের ও শ্রমজীবী মানুষের সমস্যার কথা বোঝেন না, সেই দেশকে মুক্ত করার স্বপ্ন কীভাবে দেখেন?”