সারা দেশে এখন চলছে শারদীয় দুর্গোৎসব। রাজধানী থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলেও সাজসজ্জায় মুখরিত হাজার হাজার পূজামণ্ডপ। দেবী দুর্গার আরাধনায় হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশাপাশি অনেক মুসলমানও ভিড় করছেন মণ্ডপে। রাজনৈতিক নেতারাও নিয়মিত উপস্থিত হচ্ছেন এসব আয়োজনে।
এ সময়ে আবারও আলোচনায় এসেছে বহুল ব্যবহৃত স্লোগান— “ধর্ম যার যার, উৎসব সবার।” শোভাযাত্রা, রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য ও গণমাধ্যমের প্রচারে এ স্লোগান বারবার উচ্চারিত হচ্ছে। তবে এ নিয়ে আপত্তি তুলছেন ইসলামী চিন্তাবিদরা।
তাদের মতে, ধর্মীয় উৎসবকে আলাদা করে দেখা জরুরি। যেমন মুসলমানদের ঈদুল আজহা নামাজ ও কুরবানী ছাড়া কল্পনা করা যায় না, তেমনি দুর্গাপূজায় প্রতিমা, প্রসাদ ও পূজা-অর্চনা অপরিহার্য। তাই এক ধর্মের উৎসবকে অন্য ধর্মাবলম্বীদের উৎসব বলা বাস্তবতার সঙ্গে যায় না।
ইসলামী গবেষকদের ভাষ্য, ইসলাম ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছে নিজেদের আচার পালনের ক্ষেত্রে। খেলাফতের যুগেও তারা গির্জা ও মন্দির নির্মাণ এবং ধর্মীয় উৎসব পালনে স্বাধীন ছিল। কিন্তু মুসলমানদের জন্য অন্য ধর্মের ধর্মীয় আচার বা উৎসবকে নিজেদের উৎসব হিসেবে গ্রহণ করা সমর্থনযোগ্য নয়।
তারা কয়েকটি হাদিসও উদ্ধৃত করেছেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে অন্য জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করে, সে তাদের দলভুক্ত।” (আবু দাউদ, হাদিস: ৪০৩১)। খলিফা উমর (রা.) বলেছেন, “তোমরা আল্লাহর শত্রুদের উৎসব থেকে বিরত থাকো।” (আস-সুনানুল কুবরা, হাদিস: ১৮৮৬২)।
ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, পূজা উপলক্ষে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও সহযোগিতা করা ইসলামের শিক্ষা হলেও দুর্গাপূজা বা প্রতিমা-সংক্রান্ত আচারকে মুসলমানদের উৎসব বলা শরীয়তের দৃষ্টিতে সঠিক নয়।





