জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আরও পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানিয়েছে কমিশন।
দুদকের অনুসন্ধানে নতুন করে যাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তারা হলেন— বেনাপোল কাস্টম হাউসের কমিশনার মো. কামরুজ্জামান, ঢাকা পূর্ব কাস্টমস এক্সাইজ অ্যান্ড ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনার কাজী মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন, আয়কর বিভাগের অতিরিক্ত কর কমিশনার সেহেলা সিদ্দিকা, উপকর কমিশনার মো. মামুন মিয়া এবং কর পরিদর্শক লোকমান আহমেদ।
বিজ্ঞপ্তিতে দুদক জানিয়েছে, কর ও শুল্ক আদায়ের ক্ষেত্রে কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও সদস্য মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে করদাতাদের কর ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছেন। এতে সরকার প্রতি বছর বিপুল রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, ঘুষ না পেলে এসব কর্মকর্তারা আবার ভুয়া মামলা দিয়ে ব্যবসায়ীদের হয়রানি করে থাকেন।
এর আগে বুধবার (২ জুলাই) আরও পাঁচ এনবিআর কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনুরূপ অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। তারা হলেন— অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুল রশীদ মিয়া, সদস্য লুতফুল আজীম, সিআইসির সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন, উপ-কর কমিশনার মোহাম্মদ শিহাবুল ইসলাম এবং যুগ্ম কমিশনার মো. তারেক হাছান। এদের মধ্যে তিনজন এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের সদস্য।
এরও আগে, গত ২৯ জুন দুর্নীতির অভিযোগে এনবিআরের আরও ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। এদের মধ্যে পাঁচজনই এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ‘শাটডাউন’ কর্মসূচির নেতৃত্বে ছিলেন।
তারা হলেন— এনবিআরের সদস্য (আয়কর নীতি) এ কে এম বদিউল আলম, অতিরিক্ত কর কমিশনার ও সংস্কার ঐক্য পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি মির্জা আশিক রানা, যুগ্ম কর কমিশনার মোহাম্মদ মোরশেদ উদ্দীন খান, যুগ্ম কর কমিশনার ও সহ-সভাপতি মোনালিসা শাহরীন সুস্মিতা, অতিরিক্ত কমিশনার ও সভাপতি হাছান তারেক রিকাবদার এবং অতিরিক্ত কমিশনার সাধন কুমার কুন্ডু।
দুদক বলছে, কর ফাঁকি, ঘুষ লেনদেন ও রাজস্ব অপচয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।





