গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেছেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বুঝে না বুঝে আরেকটি ‘মওদুদীবাদি প্রক্সি দলে’ পরিণত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রাশেদ খান বলেন, “জাতীয় নির্বাচন ও জুলাই সনদের পক্ষে একই দিনে ভোট—হ্যাঁ। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট—না।”
তিনি দাবি করেন, জাতীয় ঐক্যমত কমিশনের প্রস্তাবনায় যেসব বিশেষজ্ঞ একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের পক্ষে মত দিয়েছেন, সেখানে জামায়াত ছাড়া সব দলই একমত ছিল। এমনকি এনসিপিও শুরুতে সেই অবস্থান নেয়। “কিন্তু পরদিন এনসিপি হঠাৎ অবস্থান পরিবর্তন করে,” বলেন রাশেদ।
তার মতে, এরপর থেকেই জামায়াত ও এনসিপি একই অবস্থানে দাঁড়িয়েছে বলে গণমাধ্যমে খবর আসে। “জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক প্রকাশ্যে আসুক, এটি এনসিপি চায় না। তারা সম্পর্ক গোপন রাখতে চায়,” মন্তব্য করেন রাশেদ খান।
তিনি আরও বলেন, “দুই দল যে আলাদা অবস্থানে আছে—এটা বোঝাতে এনসিপি কৌশলগতভাবে জামায়াতের সমালোচনায় যায়। বাস্তবে জামায়াত যা প্রকাশ্যে করতে পারে না, তা এনসিপিকে দিয়েই করানো হয়।”
রাশেদ অভিযোগ করেন, এনসিপির মধ্যে জামায়াত-শিবির ঘরানার কিছু নিয়োগ রয়েছে, যারা নাহিদ ইসলামসহ দলের তরুণ নেতৃত্বের ওপর প্রভাব বিস্তার করে। “জামায়াত-শিবিরের নিয়োগনীতির কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গণ অধিকার পরিষদ ও এনসিপি,” বলেন তিনি।
তিনি মনে করিয়ে দেন, “কিছুদিন আগে তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম একটি পোস্টে লিখেছিলেন—‘নতুন করে আরেকটি মওদুদীবাদি প্রক্সি দলের দরকার নেই।’ এখন সেটার অর্থ পরিষ্কার—এনসিপি নিজস্ব রাজনীতি গড়তে ব্যর্থ হয়ে অন্যের ছায়ায় চলার পথ নিয়েছে।”
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে রাশেদ খান বলেন, “১৪ মাসেও সরকার তার ফিটনেস অর্জন করতে পারেনি, হাতে সময় আছে মাত্র চার মাস। এখন দুইটি নির্বাচন করা সম্ভব নয়। বরং নভেম্বরে গণভোটের প্রসঙ্গ এনে ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে, যার মাধ্যমে শুধুমাত্র আওয়ামী লীগই লাভবান হবে।”
তিনি অভিযোগ করেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও ঐক্যমত কমিশন জামায়াত ও এনসিপি ছাড়া বাকি সব দলের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। দেশকে ঘিরে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে, আরেকটি ১/১১ অনিবার্য করে তোলা হচ্ছে।”





