জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে একের পর এক কেন্দ্রীয় নেতার পদত্যাগ চলছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী আসন সমঝোতার সিদ্ধান্তের পর এই ভাঙন শুরু হয়। এ পর্যন্ত অন্তত ১০ জন কেন্দ্রীয় নেতা দল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। পদত্যাগকারীদের বেশিরভাগই বাম ঘরানার ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।


দলত্যাগী নেতাদের অভিযোগ, এনসিপি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের কথা বললেও বাস্তবে পুরোনো ক্ষমতাকাঠামোর অংশীজনদের সঙ্গে আপস করেছে। জামায়াতের সঙ্গে জোটের মাধ্যমে দলটি তার ঘোষিত মূল লক্ষ্য থেকে সরে গেছে বলে তারা মনে করছেন।


জামায়াতের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক জোট ঘোষণার আলোচনা শুরুর পর প্রথমে পদত্যাগ করেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব, চিকিৎসক ও সমাজকর্মী ডা. তাসনিম জারা। এরপর শুক্রবার পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে আরও কেন্দ্রীয় নেতা পদত্যাগ করেন। তারা সবাই দলের সব পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে পৃথক পদত্যাগপত্র জমা দেন। কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা দেন, কেউ অনলাইনে পদ

ত্যাগপত্র পাঠান। কেন্দ্রীয় পর্যায়ের পাশাপাশি বিভিন্ন ইউনিটের কয়েকজন নেতাও দল ছাড়েন।
এ ছাড়া অন্তত পাঁচজন নেত্রী জোট সিদ্ধান্তে প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানান। তাদের মধ্যে দুজন এনসিপির মনোনীত প্রার্থী হয়েও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।


পদত্যাগকারী নেতাদের মধ্যে রয়েছেন সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা, যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ, তাজনূভা জাবীন, যুগ্ম সদস্য সচিব ও মিডিয়া সেলের সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন, যুগ্ম সদস্য সচিব আরিফ সোহেল, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক খান মুহাম্মদ মুরসালীন, আইসিটি সেলের প্রধান ফারহাদ আলম ভূঁইয়া, কেন্দ্রীয় সদস্য আল আমিন আহমেদ টুটুল, কেন্দ্রীয় সংগঠক আজাদ খান ভাসানী এবং এর আগে পদত্যাগ করা কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব মীর আরশাদুল হক।


দলীয় সূত্রে জানা যায়, জামায়াতের সঙ্গে অন্তত ৩০টি আসনে নির্বাচনী সমঝোতায় গেছে এনসিপি। এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে জোট ঘোষণার দিনই কেন্দ্রীয় পর্যায়ের অন্তত ৩০ জন নেতা আহ্বায়ককে চিঠি দেন। তবে দলের একটি বড় অংশ এই সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নেয়। শেষ পর্যন্ত জোট কার্যকর হওয়ায় পদত্যাগের ঘটনা বাড়তে থাকে।


ডা. তাসনিম জারা পদত্যাগের পর ঢাকা-৯ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি আগে ওই আসনে এনসিপির মনো
নীত প্রার্থী ছিলেন। পরে তার স্বামী ও এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহও দল ছাড়েন।

পদত্যাগী নেতারা তাদের বক্তব্যে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নাগরিক রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রক্ষা হয়নি। বরং নির্বাচনী কৌশলের নামে দলটি আদর্শগতভাবে আপসের পথে হাঁটছে।


এনসিপির নীতিনির্ধারণী ফোরামের এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, জামায়াতে ইসলামী নির্ভরযোগ্য রাজনৈতিক মিত্র নয় এবং এই সমঝোতার মূল্য দলকে ভবিষ্যতে দিতে হতে পারে।


এ বিষয়ে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বাহী পরিষদের সঙ্গে আলোচনা করে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতেই জোটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মতভিন্নতা থাকা স্বাভাবিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, দলের নেতাকর্মী ও সহযোগী সংগঠনগুলোর বড় অংশ এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত।


তিনি আরও জানান, যারা বিরোধিতা করছেন তাদের সঙ্গে আলোচনা করে বোঝানোর চেষ্টা করা হবে এবং তারা শেষ পর্যন্ত দলের সিদ্ধান্তের সঙ্গেই থাকবেন বলে তিনি আশা করছেন।