যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প জেফ্রি এপস্টিনকে ঘিরে ছড়ানো অভিযোগ ও গুজবকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, এপস্টিনের সঙ্গে তার কোনো ধরনের সম্পর্ক ছিল না এবং তাকে জড়িয়ে যেসব দাবি করা হচ্ছে তা “সম্পূর্ণ মিথ্যা”।

হোয়াইট হাউসের সামনে দেওয়া এক বক্তব্যে মেলানিয়া ট্রাম্প বলেন, “আমি এপস্টিনের লালসার শিকার নই।” তিনি আরও বলেন, তার নাম ব্যবহার করে যেসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত।

মেলানিয়ার এই বক্তব্যের পর আবারও আলোচনায় এসেছে এপস্টিন ফাইল এবং এর সঙ্গে জড়িত রাজনৈতিক বিতর্ক। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে এটি দীর্ঘদিন ধরেই সংবেদনশীল একটি ইস্যু।

তিনি জানান, ১৯৯৮ সালে নিউ ইয়র্ক সিটির একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার প্রথম পরিচয় হয়। পরবর্তীতে ২০০০ সালের দিকে একটি অনুষ্ঠানে জেফ্রি এপস্টিনের সঙ্গে তার দেখা হয়। তবে তিনি দাবি করেন, এপস্টিনের সঙ্গে তার কোনো ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতা ছিল না এবং তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কেও তিনি কিছু জানতেন না।

মেলানিয়া ট্রাম্প কংগ্রেসকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, এপস্টিনের ভুক্তভোগীদের জন্য প্রকাশ্য শুনানির ব্যবস্থা করা উচিত, যাতে তারা নিজেদের অভিজ্ঞতা সরাসরি তুলে ধরতে পারেন।

এপস্টিন ছিলেন একজন কুখ্যাত ফাইন্যান্সিয়ার, যিনি ২০০৮ সালে নাবালিকাদের যৌন শোষণের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে তিনি নতুন করে মানবপাচারের ফেডারেল মামলায় অভিযুক্ত হন এবং কারাগারে তার মৃত্যু হয়, যা আত্মহত্যা বলে জানানো হয়।

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের সময় এপস্টিন সংক্রান্ত নথি প্রকাশের গতি ও স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সমালোচকদের দাবি, বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে সামলানো হয়েছে, যদিও ট্রাম্প প্রশাসন বারবার তা অস্বীকার করেছে।

মেলানিয়ার এই প্রকাশ্য মন্তব্যকে অনেকেই ব্যতিক্রমী বলে মনে করছেন। সাধারণত ফার্স্ট লেডিরা রাজনৈতিক বিতর্কে সরাসরি প্রতিক্রিয়া দেন না। ফলে তার এই বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও মিডিয়া অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্য শুধু ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষা নয়, বরং এপস্টিন বিতর্ককে আবারও কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে, যা ভবিষ্যতে আরও রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে।