আলোচিত লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফরহাদ মজহার বলেছেন, ২০২৫ সালের প্রস্তাবিত বাজেট জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, “এই বাজেট আমাদের সন্তুষ্ট করতে পারেনি। আমরা যে স্পিরিট খুঁজছিলাম, তা এই বাজেটে অনুপস্থিত।”

\r\n

বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ হলে সেন্টার ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড পিস স্টাডিজ আয়োজিত ‘বাজেট সংলাপ ২০২৫’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব মন্তব্য করেন তিনি।

\r\n

ফরহাদ মজহার বলেন, “বাজেটে বলা হয়েছে থ্রি জিরো বাস্তবায়ন করা হবে। কিন্তু আমরা তো এই তত্ত্ব বাস্তবায়নের জন্য গণঅভ্যুত্থান করিনি। এটা এক ব্যক্তির স্বপ্ন, তার প্রতি সম্মান রেখে বলছি, বাজেটের মতো গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী প্রস্তাবে এই তত্ত্বের স্থান অনুচিত।”

\r\n

তিনি আরও বলেন, “আন্তর্জাতিক মহলে এ তত্ত্বের খ্যাতি থাকতে পারে, কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় এর গ্রহণযোগ্যতা এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তাই এটি নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনার অধিকার আমাদের রয়েছে।”

\r\n

তিনি প্রশ্ন তোলেন, “গণঅভ্যুত্থানের পরে কালো টাকা সাদা হয় কী যুক্তিতে? বাজেটের সবচেয়ে দৃশ্যমান দুর্বলতা হলো লুটপাটতন্ত্রকে বৈধতা দেওয়া। কালো টাকা বৈধ করা কোনোভাবেই যুক্তিযুক্ত নয়।”

\r\n

বাজেটে প্রতিরক্ষা ব্যয় সম্পর্কেও অসন্তোষ প্রকাশ করে ফরহাদ মজহার বলেন, “বাজেটে সেনাবাহিনীর ব্যয়ের কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। আমাদের চারপাশে নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জ রয়েছে— মিয়ানমার, ভারত। তাই প্রতিরক্ষা খাতে ন্যায্য খরচ জরুরি। কিন্তু সেই খরচের হিসাব যদি গোপন থাকে, তা বাজেট স্বচ্ছতার পরিপন্থী।”

\r\n

ফরহাদ মজহার বলেন, “এই সরকার নির্বাচিত, তবে অন্তর্বর্তীকালীন। আমরা এটিকে মেনে নিয়েছি, কারণ জনগণ তাদের স্বীকৃতি দিয়েছে। কিন্তু এখন যারা সরকারকে অনির্বাচিত বলে, তারা আসলে লুটেরা-মাফিয়াতন্ত্রকে রক্ষা করতে চায়।”

\r\n

তিনি বলেন, “৮ আগস্ট গঠিত এই সরকার আসলে লুটপাটতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখার প্রয়াস। এ সরকারের হাতে প্রকৃত ক্ষমতা নেই— তবুও এতদিন ধরে তারা টিকে আছে, সেটাই অনেক বড় কথা।”