কাশ্মীরের পেহেলগামে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর টানা ১৯ দিনের সংঘাত ও উত্তেজনার মাঝে গত শনিবার (১০ মে) ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এই সমঝোতা হলেও, যুদ্ধবিরতির পরও দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হুমকি এবং সামরিক প্রস্তুতি থেমে নেই।

\r\n

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রোববার (১১ মে) সশস্ত্র বাহিনীকে কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “ওদিক থেকে গুলি এলে, এদিক থেকে গোলা ছোড়া হবে।” ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি’র এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে।

\r\n

ভারতের সরকারি সূত্রগুলো মোদির এই নির্দেশনাকে ‘মোড় ঘোরানো সিদ্ধান্ত’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। বিশেষ করে সম্প্রতি ভারতের বিমানঘাঁটিতে পাকিস্তানভিত্তিক হামলার প্রেক্ষাপটে এই নির্দেশ আরও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

\r\n

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া আরও জোরদার করতে সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখন থেকে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় ভারত ‘নতুন দৃষ্টান্ত’ গড়বে।

\r\n

প্রসঙ্গত, গত ২২ এপ্রিল পেহেলগামে ভয়াবহ হামলায় নিহত হন ২৬ জন। এই ঘটনার জন্য পরোক্ষভাবে পাকিস্তানকে দায়ী করে ভারত। এর পর থেকেই উত্তেজনা বাড়তে থাকে। ভারত-পাকিস্তান একে অপরের সঙ্গে পুরোনো চুক্তিগুলো—যেমন, সিন্ধু পানি চুক্তি ও সিমলা চুক্তি—স্থগিত করে, বিমান চলাচল বন্ধ করে এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করে।

\r\n

এই সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপ করে যুক্তরাষ্ট্র। টানা ৪৮ ঘণ্টার আলোচনার পর দুই দেশকে যুদ্ধবিরতিতে রাজি করাতে সক্ষম হন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, “আমি আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি—ভারত ও পাকিস্তান পূর্ণাঙ্গ এবং তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে।”

\r\n

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তিনি এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীদের পাশাপাশি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সামরিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। আলোচনা হবে একটি নিরপেক্ষ স্থানে, তবে এখনও তারিখ ও স্থান নির্ধারিত হয়নি।

\r\n

যদিও যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ভারতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, কাশ্মীর নিয়ে তারা কোনো আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতা মেনে নেবে না। ভারত বলছে, আলোচনার একমাত্র বিষয় হতে পারে—“পাকিস্তানের দখলে থাকা কাশ্মীর ফেরত দেওয়া।”

\r\n

বর্তমানে দুদেশের মধ্যে শুধু সামরিক পর্যায়ে, বিশেষ করে ডিজিএমও স্তরে যোগাযোগ চালু থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

\r\n

এই প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ এশিয়ায় এক অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছে, যার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে আসন্ন আলোচনা ও কূটনৈতিক পদক্ষেপগুলোর ওপর।