জুলাই গণঅভ্যুত্থনে পুলিশের গুলিতে দুই চোখ হারানো ১১ জন আহতকে ওমরাহ পালনের সুযোগ করে দিচ্ছে সরকার, বেসরকারি অর্থায়নে। তাঁদের সঙ্গী হিসেবে থাকবেন আরও ১১ জন সহচর। এই উদ্যোগটি সমন্বয় করছে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। ব্যয় বহন করছে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স ও সিলেটের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।
বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আব্দুন নাসের খান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শনিবার (২৬ জুলাই) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে একটি সভায় এই উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে। সেখানে বিস্তারিত জানানো হবে ওমরাহ সফরের সময়সূচি ও প্রস্তুতি সম্পর্কে।
প্রথমদিকে বেসরকারিভাবে ৫–৭ জন আহতকে ওমরাহ করানোর প্রস্তাব আসে। পরে বিষয়টি সরকারের বিভিন্ন স্তরে আলোচনা হয়। চক্ষু ইনস্টিটিউট সূত্র জানায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মোট ১১ জন পুরোপুরি দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন এবং তারা অন্যের সহযোগিতা ছাড়া চলাফেরা করতে পারেন না। তাঁদের নির্বাচন তুলনামূলকভাবে সহজ হওয়ায় সিদ্ধান্ত হয়—তাদের সঙ্গে একজন করে সহচর নিয়েই ২২ জনের একটি দলকে পাঠানো হবে।
এই ২২ জনের মধ্যে ১৮ জনের সম্পূর্ণ ব্যয় বহন করবে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স, আর বাকি ৪ জনের ব্যয় বহন করবেন সিলেটের রাজনীতিক আরিফুল হক চৌধুরী।
জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের তথ্যানুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের মধ্যে ২৮ জনের চোখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের হিসাব অনুযায়ী, তারা এক হাজার ৭৪ জন আহতকে চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন। সরকারি হিসাব বলছে, এই আন্দোলনে প্রায় ১৪ হাজার মানুষ আহত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
এই ওমরাহ কার্যক্রমকে আহতদের জন্য একটি মনস্তাত্ত্বিক সান্ত্বনা ও সম্মান হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।





