জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, ভারতের গুন্ডামির বিরুদ্ধে যারা আপসহীন অবস্থান নিয়েছিলেন, ওসমান হাদি ছিলেন তাঁদের অন্যতম। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, শহীদ হওয়ার তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো তাঁর হত্যার বিচার নিশ্চিত করা যায়নি। এটি আমাদের জাতির জন্য লজ্জার বিষয়। আমরা অবিলম্বে হাদি হত্যার বিচার চাই।
বুধবার দুপুরে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়নের জয়পুর চান মিয়া মার্কেটের সামনে ওসমান হাদির স্মরণে আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
\r\nহাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আমরা দেখেছি—বিএনপি বা জামায়াত চোখের ইশারায় কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করলেই গোয়েন্দা সংস্থা তৎপর হয়ে উঠত। অথচ ছয় মাস আগে প্রকাশ্যে, জুমার দিনে আমার ভাইকে গুলি করে হত্যা করা হলো। হত্যার পর খুনিরা নির্বিঘ্নে সীমান্তের ওপারে পালিয়ে গেল, কিন্তু দেশের গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।
\r\nতিনি আরও বলেন, অতীতে ভারত আমাদের দেশে কে শাসন করবে, তা ঠিক করে দিয়েছে। ব্যাংকের এজেন্ট নিয়োগের মতো করে এ দেশেও এজেন্ট নিয়োগ করা হয়েছে। মোদির সেই এজেন্ট ছিল হাসিনা। মালিকের নির্দেশ অনুযায়ী দেশ চালানো হয়েছে, আর যখন আর সম্ভব হয়নি, তখন সেই এজেন্টকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ভারতের গুন্ডামি, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও ইনসাফের প্রশ্নে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকব।
\r\nসংসদ নির্বাচনে ঋণখেলাপীদের প্রার্থী করার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে আমরা নতুন রাজনীতির প্রত্যাশা করেছিলাম। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে—ঋণখেলাপীদেরই মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে। যারা ব্যাংকের টাকা ফেরত দেয় না, জনগণের আমানত আত্মসাৎ করে, তারা সংসদে গিয়ে জনগণকে কী বার্তা দিতে চায়, তা বোধগম্য নয়।
তিনি বলেন, যে ব্যক্তি নিজেই ঋণের দায় শোধ করে না, সে জনগণের সেবা করতে এলে কেমন সেবা দেবে, তা পরিষ্কার। যারা জনগণের ট্যাক্সের টাকা ও ঋণের অর্থ লুটপাট করে বিলাসী জীবনযাপন করে, তাদের লজ্জা হওয়া উচিত।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, এসব ঋণখেলাপী সংসদে গিয়ে যেন জনগণের টাকা ফেরত দিতে না হয়, সেই ব্যবস্থাই করবে। তাই ব্যালটের মাধ্যমেই ঋণখেলাপীদের ‘না’ বলতে হবে।





