কাশ্মীরের পেহেলগামে সশস্ত্র হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্ক ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বুধবার নয়াদিল্লি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একাধিক কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার পর, বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে ইসলামাবাদ।

\r\n

পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের জরুরি বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের নেতৃত্বে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে অন্যতম ছিল সিমলা চুক্তি বাতিল এবং ওয়াঘা সীমান্ত বন্ধ করার ঘোষণা।

\r\n

পাকিস্তান আরও জানায়, তাদের আকাশসীমায় ভারতীয় মালিকানাধীন বা পরিচালিত কোনো বিমান প্রবেশ করতে পারবে না। একইসঙ্গে ভারতের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রমও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এমনকি পাকিস্তান হয়ে তৃতীয় কোনো দেশের পণ্য ভারতে প্রবেশ বা সেখান থেকে বহির্গমন করতে পারবে না বলেও জানানো হয়েছে।

\r\n

সার্ক ভিসা বাতিল করে পাকিস্তান জানায়, যেসব ভারতীয় নাগরিকদের কাছে এ ধরনের ভিসা রয়েছে, তাদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ত্যাগ করতে হবে।

\r\n

এছাড়া পাকিস্তানে নিযুক্ত ভারতীয় সামরিক উপদেষ্টাদের ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করা হয়েছে এবং ভারতীয় দূতাবাসের কর্মকর্তা সংখ্যা ৩০ জনে নামিয়ে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা ৩০ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে।

\r\n

বৈঠকে ভারত-পাকিস্তান সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি বাতিল করার ভারতীয় সিদ্ধান্তেরও নিন্দা জানানো হয়। পাকিস্তান হুঁশিয়ারি দিয়ে জানায়, ভারত যদি পানির প্রবাহে বিঘ্ন ঘটায়, তবে তা ‘যুদ্ধের ঘোষণা’ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং সে অনুযায়ী জবাব দেওয়া হবে।

\r\n

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার পেহেলগামে একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় ২৬ জন নিহত হয়। ভারত দাবি করে, হামলায় পাকিস্তানি নাগরিকরা জড়িত। তবে ইসলামাবাদ এই অভিযোগ সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করেছে।

\r\n

এই পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপের ফলে দুই প্রতিবেশী পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যকার উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।