কুবি প্রতিনিধি: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) বিজ্ঞান অনুষদের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়েছে। নির্ধারিত নীতিমালা অনুসারে অনুষদভুক্ত পাঁচটি বিভাগের স্নাতক সম্পন্ন করা ২৮ জন শিক্ষার্থী এ সম্মাননা লাভ করেন।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকাল ১১টায় বিজ্ঞান অনুষদের হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
ফার্মেসি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. জান্নাতুল ফেরদৌসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হাকিম। এছাড়া বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও শিক্ষকরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. প্রদীপ দেবনাথ।
অনুভূতি প্রকাশ করে পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ও বর্তমানে একই বিভাগের প্রভাষক মো. শাফায়েত হোসেন বলেন, এ আয়োজন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। তিনি ডিনসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। পুরস্কারপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, এ স্বীকৃতি শুধু সনদ নয়, দীর্ঘ পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের ফল। ব্যক্তিগত জীবনের সংগ্রামের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, পরিবারে সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও বাবা-মায়ের ত্যাগ ও প্রেরণাই তাদের তিন ভাইকে নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হতে সহায়তা করেছে।
প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হাকিম বলেন, এটি মেধাবীদের মিলনমেলা। যারা আজ সম্মাননা পেয়েছে, তাদের ভবিষ্যতেও সেই মান ধরে রাখতে হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করে সমাজের জন্য কাজ করার আহ্বান জানান।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মান নির্ভর করে তার শিক্ষার্থীদের মানের ওপর। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করে এবং প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় আরও উচ্চ অবস্থানে পৌঁছাবে।
তিনি আরও বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় কাঁচামালকে গড়ে তোলে, আর শিক্ষার্থীরাই নিজেদের যোগ্যতায় সেই মূল্য বহুগুণ বাড়িয়ে তোলে। তাই মেধার পাশাপাশি আচরণ ও নৈতিকতায়ও উৎকর্ষ দেখানোর আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানের সভাপতি ও বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. প্রদীপ দেবনাথ বলেন, প্রথমবারের মতো প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালার মাধ্যমে ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রদান বিজ্ঞান অনুষদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সাফল্য, গবেষণামুখী মনোভাব, নেতৃত্বগুণ ও নৈতিক দায়বদ্ধতার স্বীকৃতি।
তিনি জানান, নির্দিষ্ট মানদণ্ডের ভিত্তিতে এ সম্মাননা প্রদান ভবিষ্যতে সুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি করবে এবং উৎকর্ষ অর্জনে শিক্ষার্থীদের আরও অনুপ্রাণিত করবে। ডিনস অ্যাওয়ার্ডকে স্থায়ী ও মর্যাদাপূর্ণ প্রথা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।





