ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ক্যাফেটেরিয়া দখল করে বহিরাগত এনে প্রচারণা চালানোর অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বিরুদ্ধে। নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রার্থী সমর্থন ও প্রচারণায় বহিরাগতদের ব্যবহার এবং অনুমতি ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কক্ষকে প্রচারণার কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করায় এ নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার সরেজমিন ডাকসু ক্যাফেটেরিয়ায় দেখা যায়, দুজন বহিরাগত ছাত্রদলের নির্বাচনি সামগ্রী নিয়ে অবস্থান করছেন। সাংবাদিকরা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে একজন নিজেকে খুলনা থেকে আসা এবং অপরজন ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী বলে পরিচয় দেন। তারা জানান, ছাত্রদল-সমর্থিত জিএস প্রার্থী শেখ তানভীর বারী হামিমের কাছে এসেছেন। নাম জানতে চাইলে তড়িঘড়ি করে কক্ষ ত্যাগ করেন তারা।
নির্বাচনি আচরণবিধি অনুযায়ী ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে কেবল প্রার্থী বা ভোটাররা প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন; বহিরাগতরা কোনোভাবেই অংশ নিতে পারবেন না।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন,
বিষয়টি আমরা মাত্রই জেনেছি। বহিরাগতদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে মোবাইল টিম পাঠানো হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ক্যাফেটেরিয়ার ভেতরে ছাত্রদলের প্যানেলের নির্বাচনি পোস্টার ও লিফলেটের স্তূপ সাজিয়ে রাখা হয়েছে।
জানতে চাইলে ক্যাফেটেরিয়ার পরিচালক ফারজানা বাসার বলেন, আমার কাছ থেকে কোনো লিখিত অনুমতি তারা নেয়নি। তবে একজন আমাকে ফোনে বলেছিল তারা সেখানে বসবে। পরে বিস্তারিত জানতে তাদেরকে ফোন দেওয়া হলে তারা ব্যস্ততা দেখান। আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় বিশদ কিছু জানি না।
শুধু ডাকসু ক্যাফেটেরিয়া নয়, ডাকসু ভবনের কলা ভবন ক্যাফেটেরিয়ার শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের আহারের কক্ষেও ছাত্রদলের নির্বাচনি সামগ্রী রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, ওই কক্ষে লিফলেট ও পোস্টার ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।
সেখানে দায়িত্বরত এক কর্মকর্তা জানান, প্রার্থিতা ঘোষণার পর থেকেই ছাত্রদলের প্যানেলের লোকজন এ কক্ষ ব্যবহার করে আসছেন। তবে কারও আনুষ্ঠানিক অনুমতি নেওয়া হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান।
কলা ভবন ক্যাফেটেরিয়ার দায়িত্বে থাকা পরিচালক ফারজানা বাসার এ বিষয়ে বলেন, ছাত্রদলের ছেলেরা আমাকে বলেছিল এখানে বসতে চায়, আমি না করিনি। তবে কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমতি বা চিঠি দেওয়া হয়নি। নির্বাচনি সামগ্রী রাখার বিষয়ে আমি কিছু জানি না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়া ও কক্ষগুলো নির্দিষ্ট একটি ছাত্র সংগঠনকে ব্যবহার করতে দেওয়া হলে নির্বাচনি নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা।
জানতে চাইলে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল মনোনীত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান বলেন, আমি যতদূর জানি- কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। তবে ক্যাফেটেরিয়ার পরিচালকের কাছ থেকে লিখিত অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কিনা খেয়াল নেই। তারপরও যেহেতু অভিযোগ আসতেছে আমি বিষয়টি পুনরায় খোঁজ নেবো।
অন্যদিকে ডাকসু নির্বাচন কমিশন প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলছেন, এগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দেখাশোনার বিষয়। ক্যাফেটেরিয়ার বিষয়টি আমরা আপনাদের মাধ্যমে জেনেছি। তবে আচরণবিধি সংক্রান্ত আমাদের কাছে লিখিত কোনো অভিযোগ আসলে ব্যবস্থা নেব।





