প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যাচেষ্টা মামলায় সাত বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সিনিয়র সাংবাদিক শফিক রেহমান আপিলে খালাস পেয়েছেন। রায় ঘোষণার পর তিনি বলেন, “সুদীর্ঘ ৯ বছর পরে সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখন বিচার বিভাগ স্বাধীন, সেটাও প্রমাণিত হলো।”
মঙ্গলবার ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ শেখ তারিক এজাজ এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় শফিক রেহমান আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার আইনজীবী আব্দুস সালাম হিমেল।
২০১৫ সালের ৩ আগস্ট ঢাকার পল্টন মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফজলুর রহমান। অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরের আগে যেকোনো সময় থেকে মামলার দায়ের পর্যন্ত বিএনপি, এর সহযোগী সংগঠন জাসাস এবং বিদেশে অবস্থানরত কয়েকজন ব্যক্তি মিলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যার ষড়যন্ত্র করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ষড়যন্ত্রের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল ঢাকার পল্টনের জাসাস কার্যালয়, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহর, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন স্থানে। এ ঘটনায় মোট ১২ জন সাক্ষ্য দেন, যাদের মধ্যে সজীব ওয়াজেদ জয়ও ছিলেন।
২০১৮ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি পুলিশ আদালতে পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। এরপর ২০২৩ সালের ১৭ আগস্ট ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান নুর রায়ে শফিক রেহমান, মাহমুদুর রহমানসহ পাঁচজনকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন।
রায়ের বিরুদ্ধে ২০২3 সালের ৩০ সেপ্টেম্বর শফিক রেহমান আদালতে আত্মসমর্পণ করে আপিল করেন। আদালত সেদিন তার বিরুদ্ধে থাকা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রত্যাহার ও সাজা স্থগিত করেন।
চলতি বছরের ২৭ এপ্রিল আপিল শুনানি শেষ হয় এবং আজ রায়ের দিন ধার্য ছিল। শুনানি শেষে আদালত শফিক রেহমানকে খালাস দেন।





