গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে কালীবাড়ি হাটের একটি সরকারি দোকানঘর বরাদ্দের অভিযোগকে কেন্দ্র করে থানার ভেতরে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে জামায়াতের যুব বিভাগের ৯ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ১০-১২ জন অজ্ঞাতনামা ব্যাক্তিকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় জামায়াতের যুব বিভাগের সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগে তহিদুল ইসলাম কানন নামে এক গণমাধ্যমকর্মীকে আটক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ মার্চ) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে পলাশবাড়ী থানায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কালীবাড়ী হাটের একটি সরকারি দোকানঘর বরাদ্দকৃত সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে যুব জামায়াতের কয়েকজন নেতাকর্মী থানায় উপস্থিত হন এবং অফিসার ইনচার্জ (ওসি)-এর সাথে কথা বলেন। এ সময় অভিযোগটির দ্রুত সমাধান চাওয়াকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সেখানে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), দুইজন উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও তিনজন সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই)সহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন বলে পুলিশ দাবী করছে ।
তবে যুব জামায়াতের নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, থানায় সেবা নিতে গিয়ে তারা প্রত্যাশিত আচরণ পাননি। তাদের দাবি, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং এতে উপস্থিত কয়েকজন সেবা প্রত্যাশীও আহত হন।
এ বিষয়ে যুব জামায়াতের সভাপতি আঃ লতিফ বলেন, তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন, তবে বিস্তারিত না জেনে মন্তব্য করা ঠিক হবে না।
ঘটনার পর গাইবান্ধা-৩ আসনের সংসদ সদস্যসহ স্থানীয় জামায়াতের নেতৃবৃন্দ থানায় গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ফুটেজ প্রদর্শন না করায় বিষয়টি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহলের মতে, সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ পেলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।
এ ঘটনায় পলাশবাড়ী থানার এসআই রেজাউল করিম বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন (জিআর নং-২৪, তারিখ: ২৬ মার্চ ২০২৬)।
গাইবান্ধা জেলার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সি-সার্কেল) বলেন, “পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা অনভিপ্রেত। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”