গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর টানা আগ্রাসনে পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। শুক্রবার (১৮ জুলাই) নতুন করে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৫১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ১৪ জন নিহত হন ত্রাণ সংগ্রহের জন্য অপেক্ষারত অবস্থায়। খবর আল জাজিরার।
জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP) জানিয়েছে, গাজায় বর্তমানে হাজার হাজার মানুষ চরম খাদ্য সংকটে রয়েছে। সংস্থাটির মতে, প্রতি তিনজনের একজন ফিলিস্তিনি দিনের পর দিন না খেয়ে থাকার মতো ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি।
এদিকে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস জানিয়েছে, তারা গাজায় আটক থাকা সব বন্দিকে মুক্তির জন্য যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে, তবে ইসরায়েল সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। হামাস হুঁশিয়ারি দিয়েছে, সমঝোতা না হলে তারা দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত।
অন্যদিকে লেবাননের সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল নাইম কাসেম যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেন, “আমরা আত্মসমর্পণ করব না। অস্ত্র ছাড়া প্রতিরোধ সম্ভব নয়, এবং ইসরায়েল আমাদের অস্ত্র কেড়ে নিতে পারবে না।”
কাসেমের এই মন্তব্য মার্কিন মধ্যস্থতায় ইসরায়েল-লেবানন উত্তেজনা প্রশমনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। মার্কিন বিশেষ দূত থমাস ব্যারাক, যিনি বর্তমানে তুরস্কে রাষ্ট্রদূত ও সিরিয়া বিষয়ক দূত হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন, সম্প্রতি লেবাননের সঙ্গে একটি চুক্তির প্রস্তাব দেন, যার একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ছিল হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা।
এ বিষয়ে লেবাননের নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম বলেন, “২০০০ সালে দক্ষিণ লেবাননকে ইসরায়েলি দখল থেকে মুক্ত করতে হিজবুল্লাহর অস্ত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। তবে বর্তমানে সেই অস্ত্র রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে থাকা উচিত।”
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস ইসরায়েলের সীমান্তে আকস্মিক হামলা চালানোর পর থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে গাজায় এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় ৫৮ হাজার ৬৬৭ জন নিহত এবং আরও ১ লাখ ৩৯ হাজার ৯৭৪ জন আহত হয়েছেন। সংঘাতের কোনো স্থায়ী সমাধানের দিকেও এখনো পৌঁছানো যায়নি।





