অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় এক দিনে অন্তত ৯০টি বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। শনিবার (১৯ জুলাই) নিয়মিত সামরিক ব্রিফিংয়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এই তথ্য জানিয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
ইসরায়েলি বাহিনী দাবি করেছে, হামলাগুলো গাজার যোদ্ধাদের সামরিক ঘাঁটি ও ভূগর্ভস্থ অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। যদিও নির্দিষ্ট কোনো স্থানের নাম বা ভিজ্যুয়াল প্রমাণ তারা উপস্থাপন করেনি।
মাত্র ৩৬৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের একটি ভূখণ্ডে এ ধরনের নিবিড় হামলা বিশ্বের যেকোনো যুদ্ধক্ষেত্রের তুলনায় নজিরবিহীন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইসরায়েল আল-মাওয়াসিতে বাস্তুচ্যুতদের তাঁবু, গাজা শহরের একমাত্র ক্যাথলিক গির্জা ও ত্রাণপ্রার্থীদের জড়ো হওয়ার স্থানগুলোতেও হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় বহু হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।
যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের অভিযোগ হামাসের
গাজার শাসক গোষ্ঠী হামাস জানিয়েছে, তারা যে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে, তা প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েল। প্রস্তাবে যুদ্ধ বন্ধ, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং ফিলিস্তিনিদের জন্য মানবিক সহায়তার নিশ্চয়তা চাওয়া হয়েছিল।
হামাসের সামরিক শাখা কাসাম ব্রিগেডের মুখপাত্র আবু উবাইদা বৃহস্পতিবার ২০ মিনিটের এক ভিডিও বার্তায় বলেন, “ইসরায়েল বন্দিদের ইস্যুতে আন্তরিক নয়, কারণ অধিকাংশই সেনাসদস্য।” তিনি জানান, “যদি পূর্ণ চুক্তি না হয়, তাহলে হামাস দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে প্রস্তুত।”
মানবিক সংকট চরমে
নিয়মিত বিমান হামলা ও যুদ্ধ পরিস্থিতিতে গাজায় মানবিক বিপর্যয় দিন দিন আরও গভীর হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য ও নিরাপদ আশ্রয়ের সংকটে লাখো ফিলিস্তিনি মানবেতর অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা বারবার যুদ্ধবিরতি ও মানবিক করিডর খোলার আহ্বান জানালেও বাস্তব অবস্থায় এর বাস্তবায়ন অনিশ্চিত থেকে যাচ্ছে। সূত্র: আল জাজিরা, গাজা শিক্ষা মন্ত্রণালয়, হামাস মিডিয়া সেল





