ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজা উপত্যকা সম্পূর্ণ দখলের পরিকল্পনা ঘোষণা করতে যাচ্ছেন বলে দাবি করেছে দেশটির একাধিক প্রভাবশালী গণমাধ্যম। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গাজার পুরো এলাকাজুড়ে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান সম্প্রসারিত হবে— এমনকি যেসব এলাকায় হামাসের হাতে বন্দি ইসরায়েলিরা রয়েছে, সেখানেও।
দ্য জেরুজালেম পোস্ট, চ্যানেল ১২ ও ওয়াইনেট–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে গাজায় সামরিক তৎপরতা আরও জোরদার হবে।
চ্যানেল ১২-এর প্রধান রাজনৈতিক বিশ্লেষক আমিত সেগা জানিয়েছেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা তাকে নিশ্চিত করেছেন যে, “সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে।”
ওই কর্মকর্তা বলেন, “হামাস যদি পুরোপুরি আত্মসমর্পণ না করে, তাহলে তারা আর কোনো জিম্মিকে মুক্তি দেবে না। আমরাও আত্মসমর্পণ করব না। এখনই পদক্ষেপ না নিলে জিম্মিরা অনাহারে মারা যাবে এবং গাজা হামাসের দখলে থেকে যাবে।”
নেতানিয়াহুর এই সম্ভাব্য ঘোষণার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, “এই পরিকল্পনা যে ধরনেরই হোক—তা বাস্তব উদ্যোগ, চাপ তৈরির কৌশল বা আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া যাচাইয়ের চেষ্টা— আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত এখনই হস্তক্ষেপ করা।”
মন্ত্রণালয়টি আরও বলেছে, “গাজা পুরোপুরি দখলে নেওয়ার ঘোষণা মানবিক বিপর্যয়কে আরও তীব্র করবে এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে।”
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে আল জাজিরার পক্ষ থেকে মন্তব্য চাওয়া হলেও নেতানিয়াহুর দপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, গাজার সম্পূর্ণ দখলের এ ধরনের ঘোষণা শুধু যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে না, বরং বহু নিরপরাধ নাগরিকের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলবে।





