গোপালগঞ্জে এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল করে পোস্ট দেওয়ার জেরে দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) মোশফেকুর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তার ওই পোস্টের প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ হয়ে বুধবার (১৭ জুলাই) রাত পর্যন্ত দিনাজপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা।

বিকেল সাড়ে ৬টার দিকে মোশফেকুর রহমান তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে ট্রল করে লেখেন, \"ট্যাংকের এসি খুব আরামদায়ক শুনেছি।\"—যা গোপালগঞ্জের ঘটনার প্রেক্ষাপটে ব্যঙ্গ হিসেবে ধরে নেয়া হয়। পোস্টটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আন্দোলনকারীরা দিনাজপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে।

বিক্ষোভের মুখে রাতেই অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় বলে নিশ্চিত করেন দিনাজপুরের পুলিশ সুপার মারুফাত হোসেন। তিনি বলেন, “ফেসবুক পোস্টটি দেখার পরপরই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে মোশফেকুর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।”

তবে আন্দোলনকারীরা শুধু প্রত্যাহার নয়, মোশফেকুর রহমানের গ্রেপ্তার এবং বিচার দাবি করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা আহ্বায়ক একরামুল হক আবির বলেন, “এক বছর আগেও তার নির্দেশে আমাদের আন্দোলনে গুলি চালানো হয়েছিল। তিনি আওয়ামী লীগের ছত্রচ্ছায়ায় আমাদের নানা সময়ে হয়রানি করেছেন। এবার গোপালগঞ্জের ঘটনার পর আবারও প্ররোচনামূলক পোস্ট করেছেন। আমরা দাবি করছি—তাকে শুধু প্রত্যাহার নয়, অপরাধমূলক আচরণের জন্য মামলা দিয়ে গ্রেফতার করতে হবে।”

তিনি আরও জানান, দাবি পূরণ না হলে তারা দিনাজপুরসহ সারা দেশে আরও কঠোর কর্মসূচির ডাক দেবেন।