চট্টগ্রামের নালাপাড়া এলাকার স্কুলশিক্ষক রেজাউল করিমের মাসখানেক আগে জ্বর ও মাথাব্যথা হলে তিনি স্থানীয় একটি ফার্মেসি থেকে প্যারাসিটামল কিনে খান। কিন্তু ওষুধে কোনো কাজ হয়নি। পরে তিনি নাপা খেয়ে সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং বুঝতে পারেন, আগে যেই ওষুধ খেয়েছেন তা ভেজাল ছিল। রেজাউল জানান, “এবার থেকে ওষুধ কেনার আগে ব্র্যান্ড যাচাই করি।”
শুধু রেজাউলই নয়, চট্টগ্রামের অধিকাংশ বাসিন্দাই প্রতিনিয়ত ভেজাল ওষুধ সেবন করছেন। নগরের অনেক ফার্মেসিতে লাইসেন্সবিহীন ব্যবসা চলে, মালিকরা ওষুধ ও কসমেটিকস আইন-২০২৩ সম্পর্কে জানেন না এবং প্রশিক্ষণও নেই।
রাজাখালী এলাকার ফার্মাসিস্ট রাহুল হোড় তিন বছর ধরে অনুমোদনবিহীন বিদেশি ওষুধসহ ৪৬২ ধরনের ওষুধ বিক্রি করছেন। প্রতিদিন ৩০০–৪০০ রোগী তার ফার্মেসিতে আসেন। সেখানে অ্যান্টিবায়োটিক, বিদেশি ওষুধ এবং ফুড সাপ্লিমেন্টের নামে ভেজাল ওষুধ দেওয়া হয়।
নগরের বিভিন্ন এলাকায় মা ও শিশু হাসপাতালের সামনে, ফটিকছড়ি এবং তালতলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ জব্দ করা হয়েছে। তবুও জরিমানা ছাড়া অধিকাংশ ফার্মেসি দায়মুক্ত থাকছে।
চট্টগ্রামে অনুমোদিত সাত হাজার ফার্মেসি থাকলেও মাত্র দুই তত্ত্বাবধায়ক নিয়মিত তদারকি করছেন। ৩৫০টি ফার্মেসি জরিপে দেখা গেছে, ১৮১টি ফার্মেসিতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ফার্মাসিস্ট ছাড়াই ব্যবসা চলছে।
লাখ টাকা জরিমানা বা উভয়ই হতে পারে। নকল বা ভেজাল ওষুধ বিক্রি করলে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় শাস্তি হতে পারে।
জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জাফর ইকবাল বলেন, “ওষুধ ও কসমেটিকস আইন একটি বিশেষ আইন। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মীরাও এর যথাযথ জ্ঞান রাখেন না। তাই ভেজাল ওষুধের বাণিজ্য থামানো কঠিন হয়ে পড়েছে।”
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে কয়েক লাখ টাকার জরিমানা করা হলেও, এই ধরনের অবৈধ ব্যবসা এখনও চলছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলার উপপরিচালক ফয়েজ উল্লাহ বলেন, “ভেজাল ও নকল ওষুধ নিয়ন্ত্রণে অভিযান চালাচ্ছি, ফার্মেসি মালিকদের সতর্ক করছি।”





