চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষক সমাজের সাদা দল সাম্প্রতিক অস্থিরতা নিরসন এবং জাতীয় ঐক্য, একাডেমিক স্বাধীনতা ও জুলাই বিপ্লবের চেতনা রক্ষা করার জন্য বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতিটি স্বাক্ষর করেছেন সাদা দলের আহ্বায়ক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. শাহাদাত হোছাইন ও যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আকতার হোসেন।


বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ২৪-এর জুলাই-আগস্টে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থান ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বৈরাচার ও একপক্ষীয় আধিপত্যের বিরুদ্ধে এক অবিস্মরণীয় গণবিজয়। এই আন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে গড়ে ওঠা নতুন বাংলাদেশের মূল ভিত্তি হলো একটি গণতান্ত্রিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং বৈষম্যহীন সমাজ। দীর্ঘ রাজনৈতিক মেরুকরণ ও বিভাজনের কারণে জাতীয় ঐক্য বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমান পুনর্গঠনকালীন সময়ে এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে সকল পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সংহতি বজায় রাখা অপরিহার্য।


সাদা দল আরও উল্লেখ করেছে, বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে জ্ঞানচর্চা, মুক্তচিন্তা এবং সুস্থ বুদ্ধিবৃত্তিক বিতর্কের কেন্দ্র। দীর্ঘদিন ধরে একপক্ষীয় ও চাপিয়ে দেওয়া মতাদর্শের চর্চা একাডেমিক পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। তাই বাকস্বাধীনতা ও ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা একটি গণতান্ত্রিক সমাজের মূল ভিত্তি। বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙিনায় প্রতিটি যৌক্তিক মতামতকে শ্রদ্ধার সঙ্গে গ্রহণ করা উচিত এবং প্রমাণভিত্তিক আলোচনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।


সাদা দল জানায়, সম্প্রতি চবি-এর একটি জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক)-এর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইতোমধ্যে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন। তবুও কিছু পক্ষ এই ইস্যু নিয়ে ক্যাম্পাসে অস্থিরতা তৈরি করার চেষ্টা চালাচ্ছে। বিবৃতিতে বলা হয়, মহান বিজয় দিবসের মতো জাতীয় অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা ও বিভাজন জাতীয় ঐক্যের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাই কাউকে রাজনৈতিকভাবে চাপ দেওয়া বা 'ট্যাগিং/তকমা' ব্যবহার করার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে সংলাপের মাধ্যমে মতপার্থক্য সমাধান করতে হবে।


বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, জাতীয় ইতিহাসে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ভিন্নমত প্রকাশের ক্ষেত্রে অনৈক্য সৃষ্টি না করে যৌক্তিক বিষয়গুলো খুঁজে বের করা দরকার। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের এবং শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে বিবৃতিতে বলা হয়, তাঁদের আত্মত্যাগই আমাদের জাতীয় গর্ব।


সাদা দল সকল পক্ষকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিপূর্ণ ও একাডেমিক পরিবেশ বজায় রাখতে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে। জাতীয় দিবসগুলোকে রাজনৈতিক সংঘাতের ক্ষেত্র না বানিয়ে সংহতির প্রতীক হিসেবে পালন করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। চবি-এর শিক্ষক হিসেবে জুলাই আন্দোলনের চেতনায় আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি—ঐক্য, সত্যনিষ্ঠা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধই সুন্দর আগামীর পথপ্রদর্শক। জুলাইয়ের শহীদদের রক্তের ঋণ শোধের সর্বোত্তম উপায় হলো গণতান্ত্রিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা।