চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবির নেতা মামুন হোসাইন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আওয়ামীপন্থী শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

২০১৪ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আমানত হলে ছাত্রশিবিরের তৎকালীন সেক্রেটারি মামুন হোসাইন ছাত্রলীগ কর্মীদের হাতে নিহত হন। মামুনের মৃত্যুদিবস উপলক্ষে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সাবেক সভাপতি রাজিফুল হাসান দাবি করেন, ওই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনার সঙ্গে তৎকালীন হল প্রভোস্ট আবুল মনসুরসহ প্রক্টরিয়াল বডির কয়েকজন সদস্য যুক্ত ছিলেন।

রাজিফুল হাসানের ভাষ্য অনুযায়ী, মামুনকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় পুলিশ প্রশাসনের কিছু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ছাত্রলীগের নেতাদের সমন্বয়ে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পুলিশ ও ছাত্রলীগের একটি যৌথ দল হলে প্রবেশ করে ছাত্রশিবিরের ২২ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে। এরপর সম্মিলিত হামলায় মামুন হোসাইনকে হত্যা করা হয়। এ সময় গুলিবিদ্ধ ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ছাত্রশিবিরের আরও কয়েকজন নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থী আহত হন বলে তিনি দাবি করেন।

পোস্টে আরও বলা হয়, ঘটনার পর শাহ আমানত হলের তৎকালীন প্রভোস্ট আবুল মনসুরের পদত্যাগ দাবি করা হলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং বিষয়টি নিয়ে তাচ্ছিল্যপূর্ণ মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

এদিকে, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, হামলার পর অভিযুক্তদের নিরাপদে বেরিয়ে যেতে হলের গেট খুলে দিতে সহায়তা করেন আবুল মনসুর। একই সঙ্গে ঘটনার আলামত নষ্ট করার অভিযোগও তোলা হয় তাঁর বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে তিনি নিজেই বাদী হয়ে তৎকালীন ছাত্রশিবির নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

আবুল মনসুর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের শিক্ষক। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত ভূমিকা রাখার অভিযোগও আলোচনায় এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।