ঈদের পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জ্বর ও র্যাশে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়ছে। ইতিমধ্যে হাম ও রুবেলা শনাক্ত হয়েছে, নেওয়া হয়েছে বিশেষ আইসোলেশন ব্যবস্থা।
ঈদের ছুটির পর থেকেই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। প্রচণ্ড জ্বর আর লালচে র্যাশ নিয়ে হাসপাতালে আসছে নানা বয়সী শিশু। শুরুতে সাধারণ ওয়ার্ডে চিকিৎসা দিলেও, সংক্রমণ ঝুঁকি এড়াতে খোলা হয়েছে আলাদা ওয়ার্ড।
বর্তমানে এই বিশেষায়িত ওয়ার্ডে ভর্তি আছে ১৮ জন শিশু। একজনের শরীরে হাম এবং একজনের শরীরে শনাক্ত হয়েছে রুবেলা ভাইরাস। বাকিদের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে ঢাকার রোগ শনাক্তকরণ কেন্দ্রে। সন্তানদের এমন অবস্থায় দিশেহারা অভিভাবকেরা। অসুস্থ শিশুর অভিভাবকেরা বলছেন, প্রচণ্ড জ্বর আর লালচে র্যাশ নিয়ে হাসপাতালে আসছে অনেক শিশু।
চিকিৎসকেরা বলছেন, গত দুই সপ্তাহে চট্টগ্রাম ও আশপাশের জেলা থেকে জ্বর ও নিউমোনিয়া নিয়ে আসা শিশুদের সংখ্যা আশঙ্কাজনক। আক্রান্তদের বয়স ছয় মাস থেকে ১৫ মাসের মধ্যে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা: বেলায়েত হোসেন ডালী বলেন, ‘এখন যেহেতু দেখা যাচ্ছে শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ বাড়ছে, এর বিস্তার ঠেকাতে হাসপাতালে আমরা আইসোলেশন কর্নার চালু করেছি।’
সোমবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম কর্নার পরিদর্শনে যান সিটি মেয়র ও সিভিল সার্জনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। দেশের অনেক জেলায় টিকা সংকট থাকলেও চট্টগ্রামে পর্যাপ্ত মজুত আছে বলে দাবি তাঁদের।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা: শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আমাদের সব সেন্টারে হামের টিকা দেওয়া হচ্ছে।’
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা: জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘যে সমস্ত জায়গায় হাম পজিটিভ পাওয়া গেছে, তার আশপাশের এলাকা সার্চ করে যারা টিকা পায় নাই তাদের টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করছি আমরা।’
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, অতীতে যারা টিকা নিতে পারেনি, তারাই এখন বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। বিশেষ করে শহরের বস্তি এলাকা ও কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের শিশুরা রয়েছে উচ্চ ঝুঁকিতে। সংকট মোকাবিলায় দ্রুত বিশেষ ক্যাম্পেইন শুরুর তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।





