চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক থাকলেও দেখা নেই শিক্ষার্থীদের। উপজেলার ১২০ নম্বর পশ্চিম পাতানিশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সব শ্রেনী মিলিয়ে মাত্র ৩৪ জন শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকলেও, বিদ্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন ৬ জন শিক্ষক।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণিতে মাত্র ৫ জন শিক্ষার্থী- মুনতাহা, রাবেয়া আক্তার, ইশরাত, জুনায়েদ ও সালমা আক্তার নিয়মিত ক্লাস করছে। হাজিরা খাতায় ৭ জন শিক্ষার্থীর নাম থাকলেও নিয়মিত আসে এই ৫জন। চতুর্থ শ্রেণিতে ১২ জনের মধ্যে ৫ জন, তৃতীয় শ্রেণিতে ৮ জনের মধ্যে ৫ জন, দ্বিতীয় শ্রেনীতে ১৩ জনের মধ্যে ৭-৮ জন এবং প্রথম শ্রেনীতে ২০ জনের মধ্যে ১২-১৫ জন শিক্ষার্থী নিয়মিত উপস্থিত থাকে।
বিদ্যালয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ৬ জন শিক্ষক হলেন- প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক সুরাইয়া পারভীন, হাওয়া আক্তার, জান্নাতুল ফেরদৌস, আব্দুল হাই ও ফেরদৌসী আক্তার। তবে সরেজমিনে মাত্র ৩ জন নারী শিক্ষককে বিদ্যালয়ে উপস্থিত পাওয়া যায়। একজন শিক্ষক মাতৃত্বকালীন ছুটিতে এবং আরেকজন প্রশিক্ষণে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, অধিকাংশ শিক্ষক স্থানীয় হওয়ায় পাঠদানের প্রতি আগ্রহ কম। তারা সময়মতো বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন না এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মানোন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখছেন না। এরই ফলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে।
পাতানিশ গ্রামের বাসিন্দা কাউছার হোসেন বলেন, এখানে পড়াশোনা সঠিকভাবে হয় না। প্রধান শিক্ষক স্থানীয় হওয়ায় কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস করে না। ফলে শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থী দুটোই কমে যাচ্ছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলামকে বিদ্যালয়ে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি বিদ্যালয়ের কাজে বাইরে আছি, পরে সরাসরি কথা বলব। এরপর তিনি ফোন কেটে দেন।
হাজীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবু সাঈদ চৌধুরী জানান, বিদ্যালয়টির ভবন না থাকায় কিছুদিন আগে টিনসেট ঘর নির্মাণে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাঠদানের বিষয়টি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান পাটোয়ারী দায়িত্বে রয়েছেন। আমি বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।







