চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে এবার দুই স্তরে ভোট গণনা করা হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সকালে তিনি জানান, ভোটের ফলাফল একই দিন, অর্থাৎ ১৫ অক্টোবরেই প্রকাশ করা হবে।


তিনি বলেন, “ভোট গ্রহণ ও গণনায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। ব্যালট পেপারের রঙ গোপন রাখা হয়েছে নিরাপত্তার স্বার্থে।”


সকালে নির্বাচন কমিশনের সচিব অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. আরিফুল হক সিদ্দিকীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ভোটগ্রহণের নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়।


ক্যাম্পাসে প্রবেশ ও ভোট প্রদান সংক্রান্ত নির্দেশনা:

ভোটারদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত তিনটি প্রবেশপয়েন্ট দিয়ে ক্যাম্পাসে ঢুকতে হবে: কাটা পাহাড় (বাণিজ্য অনুষদ), ৩নং গোডাউন (প্রফেসর ইউনূস ভবনের পাশে) এবং শহীদ মিনারের দক্ষিণ পাশের আর্চওয়ে (লেডিস ঝুপড়ি)।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ড সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক। প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা ব্যাংক পে-স্লিপ দেখিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন।

ভোটকক্ষে প্রবেশের আগে ব্যারিকেডে পরিচয়পত্র যাচাই করে পাঁচটি ব্যালট পেপার দেওয়া হবে—এর মধ্যে চারটি কেন্দ্রীয় চাকসুর এবং একটি হল সংসদের জন্য।


ভোট প্রদান পদ্ধতি:

ভোটারদের নির্ধারিত গোপন কক্ষে গিয়ে নির্ধারিত কলম ব্যবহার করে পছন্দের প্রার্থীর পাশে বৃত্ত পূরণ করতে হবে।

কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য পদে সর্বোচ্চ পাঁচটি, হল সংসদ ও হোস্টেল সংসদে সর্বোচ্চ তিনটি করে ভোট দেওয়া যাবে।

কোনো পদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সংখ্যার বেশি বৃত্ত পূরণ করলে কেবল সেই পদের ভোট বাতিল হবে, অন্যগুলো বৈধ থাকবে।

ভোট শেষে নিজের হাতে ব্যালট নির্ধারিত বাক্সে ফেলতে হবে। কেন্দ্রীয় সংসদের জন্য থাকবে চারটি পৃথক বাক্স, আর হল সংসদের জন্য একটি।

ভোট শেষে কেন্দ্র ত্যাগ:

ভোটারদের ভোট প্রদান শেষে বিকল্প পথে কেন্দ্র ত্যাগ করতে হবে, যাতে ভিড় ও বিশৃঙ্খলা এড়ানো যায়।


চলতি সপ্তম চাকসু নির্বাচনে মোট ভোটার ২৭ হাজার ৫১৬ জন। কেন্দ্রীয় সংসদে রয়েছে ২৬টি পদ, আর প্রতিটি হল ও হোস্টেল সংসদে রয়েছে ১৪টি করে পদ। নির্বাচনে মোট প্রার্থী ৯০৮ জন, যার মধ্যে কেন্দ্রীয় সংসদে ১৩টি প্যানেল ও স্বতন্ত্র মিলে প্রার্থী সংখ্যা ৪১৫ জন। ভোটগ্রহণ হবে ৫টি অনুষদ ভবনের ১৫টি কেন্দ্রে, ৬০টি ভোটকক্ষে।