চুয়াডাঙ্গায় বিভিন্ন সময়ে আটক ৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ধ্বংস করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি)।

বুধবার (৬ মে) বেলা ১১টায় চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন ৬ বিজিবির সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে ওই মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যশোর রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন ও চুয়াডাঙ্গা ৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- চুয়াডাঙ্গা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তফা কামাল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জামাল আল নাসের, সিভিল সার্জন হাদি জিয়া উদ্দীনসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে লে. কর্নেল নাজমুল হাসান জানান, বিজিবি মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তিনি আরও জানান, ২০২৪ সালের ১ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলার সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে উদ্ধার হওয়া মালিকবিহীন মাদকদ্রব্যগুলো নষ্ট করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৩ হাজার ৯৮৩ বোতল বিদেশি মদ, ১০ হাজার ৬১৭ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল, ২৯ বোতল ভারতীয় বিয়ার, ২৩৮.৭৯ কেজি ভারতীয় গাঁজা, ১ হাজার ৮৫৭ কেজি হেরোইন, ১.৮৯ কেজি কোকেন, ২৫ হাজার ৪৮৫ পিস ভারতীয় বিভিন্ন প্রকার নেশা জাতীয় ট্যাবলেট (ভায়াগ্রা/সেনেগ্রা/ট্যাপেন্টাডল) এবং ১৯ পিস ভারতীয় নেশা জাতীয় ইনজেকশন। এসব মাদকের আনুমানিক মূল্য ৩ কোটি ১৮ লক্ষ ৭৬ হাজার ৬৬৫ টাকা।

সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করা সম্ভব বলে জানান যশোর রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান।

তিনি বলেন, ‘মাদক একটি বহুমাত্রিক ও জটিল সামাজিক সমস্যা। এ সমস্যা মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণ অপরিহার্য। বিজিবি মাদকমুক্ত দেশ গঠনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে বিজিবির প্রতিটি সদস্য সীমান্তে দিন-রাত নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।