কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দেশে মসলার বাজারে বড় ধরনের মূল্যপতন দেখা গেছে। বৈধ পথে আমদানি কমলেও ভারত থেকে চোরাই পথে অতিরিক্ত মসলা প্রবেশ করায় পাইকারি বাজারে প্রায় সব ধরনের মসলার দাম কমেছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, এক সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারি বাজারে এলাচের দাম কেজিতে ২০০ টাকা কমে ৪ হাজার ১০০ টাকা থেকে ৩ হাজার ৯০০ টাকায় নেমে এসেছে। লবঙ্গের দাম কমেছে ৫০ টাকা, বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৩০০ টাকায়। এছাড়া জিরা বিক্রি হচ্ছে ৫৩০ টাকা এবং গোল মরিচ ১ হাজার ১০ টাকায়।
চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে চলতি অর্থবছরে মসলা আমদানিও কমেছে প্রায় ২৫ শতাংশ। চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজ–এর তথ্যমতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জিরা, লবঙ্গ, এলাচ ও জয়ফলের আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে দারুচিনি, গোলমরিচ ও জয়ত্রীর আমদানি কিছুটা বেড়েছে।
বাংলাদেশ পাইকারি মসলা ব্যবসায়ী সমিতির ভাইস প্রেসিডেন্ট অমর কান্তি দাশ বলেন, ব্যবসায়ীদের অনেকেই এখন আগের মতো এলসি খুলতে পারছেন না। উৎপাদন খরচ বেশি হলেও বাজারে কম দামে পণ্য বিক্রি করতে হচ্ছে, ফলে লোকসানের চাপ বাড়ছে।
খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, সীমান্ত দিয়ে চোরাই পথে মসলা প্রবেশ করায় বৈধ আমদানিকারকরা প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছেন না। এতে সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে।
খাতুনগঞ্জ–এর ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, চোরাই পথে আসা পণ্যের কারণে আমদানিকৃত মসলা খরচ অনুযায়ী বিক্রি করা যাচ্ছে না। আরেক ব্যবসায়ী নূরুল আজিম মুন্না জানান, সীমান্তপথে অতিরিক্ত মসলা প্রবেশ ও কম বিক্রির কারণে বাজারে দামের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশে ভারত থেকে সবচেয়ে বেশি জিরা, গোল মরিচ ও এলাচ আমদানি হয়। এছাড়া লবঙ্গ, দারুচিনি ও জয়ফলের মতো মসলা আসে ইন্দোনেশিয়া, চীন ও ভিয়েতনাম থেকে।





