জামালপুর সদরের পূর্ব কোটামনি এলাকায় গরু চুরির অভিযোগে এক দম্পতিকে অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা কাউসার মিয়ার গোয়ালঘরে চুরির চেষ্টার অভিযোগে কৃষক সুরুজ মিয়ার ছেলে সুজনকে ধরতে যান কয়েকজন প্রতিবেশী। সুজন পালিয়ে গেলে উত্তেজিত জনতা তার বাবা সুরুজ মিয়া ও মা জোছনা বেগমকে (৪৫) জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যায়। স্থানীয়দের দাবি, সুজন মাদকাসক্ত এবং চুরির কর্মকাণ্ডে জড়িত, যা থেকে এই উত্তেজনার সূত্রপাত।
ইউপি সদস্য মোহাম্মদ নায়েব আলীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই সালিশি বৈঠকে সুরুজ মিয়াসহ তিনজনকে বেঁধে মারধর করা হয়। স্ত্রীকে সামনে রেখে স্বামীকে মারধর এবং সুরুজকে বাঁচাতে গেলে জোছনা বেগমকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও চরম অপমান করা হয়। এমনকি সকালে স্বামীকে ছাড়িয়ে আনতে গেলেও জোছনা বেগম পুনরায় নির্যাতন ও অপমানের শিকার হন বলে স্বজনরা অভিযোগ করেছেন। সুরুজ মিয়াকে বেঁধে পুরো এলাকায় ঘোরানোর পর ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যাওয়া হয়, যা ওই নারীর জন্য অসহনীয় অপমানের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
প্রকাশ্যে এই চরম লাঞ্ছনা ও শারীরিক নির্যাতন সইতে না পেরে আজ বৃহস্পতিবার সকালে নিজ বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন জোছনা বেগম। পরিবারের সদস্যদের দাবি, নির্দোষ মা-বাবাকে ছেলের অপরাধের জন্য এভাবে জনসমক্ষে অপমান করার কারণেই তিনি আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
ঘটনার পর থেকে মূল অভিযুক্ত কাউসার মিয়া আত্মগোপনে রয়েছেন। ইউপি সদস্য নায়েব আলী মারধরের নির্দেশ দেওয়ার কথা অস্বীকার করলেও ভুক্তভোগী পরিবার দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে। জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, নির্যাতনের বিষয়টি আগে পুলিশকে জানানো হয়নি। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।





